নির্বাচন কমিশন ভবন।এনআইডি সংশোধনে আর ঘুরতে হবে না উপজেলা-জেলা অফিসে, নতুন সিদ্ধান্তে দ্রুত মিলবে সেবা; পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহারে কঠোর নির্দেশনা।
ভোটার সেবায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এখন থেকে আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়েই মিলবে ভোটারের আঙুলের ছাপ (বায়োমেট্রিক) যাচাই সুবিধা। ফলে এনআইডি সংশোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবার জন্য নাগরিকদের আর উপজেলা বা কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বারবার যেতে হবে না—কমবে দীর্ঘদিনের ভোগান্তি।
বুধবার ইসির জাতীয় পরিচয় (এনআইডি) অনুবিভাগের সিস্টেম ম্যানেজার মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন জানান, এতদিন ‘এফআইএস ম্যাচিং’ সুবিধা আঞ্চলিক পর্যায়ে ছিল না। তবে এটি চালুর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে এবং ইসির নির্দেশনা পেলেই দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে।
ইসি সূত্র জানায়, জাতীয় পরিচয়পত্রে নাম বা পিতা-মাতার নাম সংশোধনের জন্য অধিকাংশ নাগরিককে আঞ্চলিক কার্যালয়ে যেতে হলেও সেখানে বায়োমেট্রিক যাচাইয়ের সুবিধা না থাকায় তাদের আবার উপজেলা বা কেন্দ্রীয় অফিসে যেতে হতো। নতুন এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে এক জায়গাতেই সম্পন্ন হবে পুরো প্রক্রিয়া, ফলে সেবার গতি বাড়বে বহুগুণে।
বর্তমানে দেশে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ১৫১ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ৫২৪ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ হাজার ১২০ জন।
অন্যদিকে, চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ইসি সচিবালয় ও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্য নতুন নির্দেশনাও জারি করা হয়েছে। ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে অফিসের এসির তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় গাড়ি ব্যবহার পরিহারের মাধ্যমে জ্বালানি তেল সাশ্রয়ের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব দেশে জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি করায় সরকার ইতোমধ্যে ১১ দফা সাশ্রয়ী নির্দেশনা জারি করেছে। সেই ধারাবাহিকতায় ইসির এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও বাস্তবমুখী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
