ঈদ শেষে ঘরে ফেরা হলো না বহু যাত্রীর—উদ্ধার অভিযান চলছে, স্বজনদের আহাজারিতে ভারী নদীর পাড়।
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় হৃদয়বিদারক এক দুর্ঘটনায় যাত্রীবাহী বাস নদীতে তলিয়ে গিয়ে অন্তত ৪৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন। বুধবার (বিকেল সাড়ে ৫টা) পন্টুনে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি সরাসরি পদ্মা নদীর গভীরে ডুবে যায়।
ঘটনার পরপরই চারপাশে নেমে আসে আতঙ্ক ও কান্নার রোল। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সাতজনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, ইতোমধ্যে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো নিশ্চিত করা হয়নি।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ছেড়ে আসা সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটি দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাটে পন্টুনে ওঠার সময় হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়। যে স্থানে বাসটি ডুবেছে, সেখানে পানির গভীরতা অনেক বেশি হওয়ায় উদ্ধারকাজ জটিল হয়ে পড়েছে।
এদিকে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে। তবে এখন পর্যন্ত বাসটির অবস্থান নিশ্চিতভাবে শনাক্ত করা যায়নি, উদ্ধার হয়নি কোনো নিখোঁজ যাত্রীও।

জানা গেছে, দুপুর ২টা ১০ মিনিটে কুমারখালী থেকে ছেড়ে আসা বাসটিতে মোট ৫৬ জন যাত্রী ছিলেন। তাদের অধিকাংশই ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরছিলেন—যাদের অনেকেই এখনো নিখোঁজ, স্বজনদের জন্য রেখে গেছেন অনিশ্চয়তার দীর্ঘ ছায়া।
উদ্ধারকাজে ব্যস্ত থাকায় বিআইডব্লিউটিসি, গোয়ালন্দ ঘাট থানা ও ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের কোনো কর্মকর্তার বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। নদীর পাড়ে জড়ো হওয়া স্বজনদের আহাজারি আর উৎকণ্ঠা—সব মিলিয়ে দৌলতদিয়া আজ যেন এক বিষাদঘন জনপদ।
