শেরপুরের শ্রীবরদী যেন ২৬ মার্চের প্রথম আলোয় জেগে উঠেছিল এক অন্যরকম আবেগে—ভালোবাসা, শ্রদ্ধা আর আত্মত্যাগের স্মৃতিতে মোড়ানো এক অনন্য প্রভাত। মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচিতে শহীদদের প্রতি জানানো হয়েছে গভীরতম শ্রদ্ধা, আর নতুন প্রজন্মের হৃদয়ে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে দেশপ্রেমের রক্তিম স্পন্দন।
সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে শহীদ মিনারের বেদি ভরে ওঠে ফুলের স্নিগ্ধতায়, আর নীরবতার ভেতর লুকিয়ে থাকে হাজারো না বলা গল্প। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মণীষা আহমেদের নেতৃত্বে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে শুরু হয় দিনের প্রথম প্রহরের শ্রদ্ধাঞ্জলি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বীর মুক্তিযোদ্ধারা, বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা, প্রেসক্লাব সদস্যসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ—সবাই যেন এক সুতোয় গাঁথা, স্বাধীনতার ভালোবাসায় আবদ্ধ।
সকাল গড়াতেই সরকারি কলেজ মাঠে জমে ওঠে কুচকাওয়াজের বর্ণিল আয়োজন। শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মাঠ কেঁপে ওঠে শৃঙ্খলার ছন্দে, আর প্রতিটি পদক্ষেপে ফুটে ওঠে দেশপ্রেমের দৃঢ় অঙ্গীকার। সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে শুরু হওয়া এই প্যারেড যেন হয়ে ওঠে স্বাধীনতার এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি—যেখানে নতুন প্রজন্ম বুক ভরে ধারণ কঅনুষ্ঠানে জাতীয় সংগীতের সুর ছড়িয়ে দেয় এক অপার্থিব অনুভূতি, আর মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসভিত্তিক চিত্র প্রদর্শন যেন চোখের সামনে তুলে ধরে সেই রক্তাক্ত অথচ গৌরবময় দিনগুলোর গল্প। সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় শিল্পীরা ভালোবাসার রঙে আঁকেন স্বাধীনতার ক্যানভাস—যেখানে প্রতিটি সুর, প্রতিটি কবিতা হয়ে ওঠে শহীদদের প্রতি অমলিন শ্রদ্ধার নিবেদন।
উপজেলা প্রশাসনের এই আয়োজন শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়—এ যেন হৃদয়ের গভীর থেকে উঠে আসা এক প্রতিশ্রুতি, শহীদদের ত্যাগকে স্মরণ করে দেশপ্রেমের আলোকবর্তিকা জ্বালিয়ে রাখার অঙ্গীকার। আর মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বুকে ধারণ করার পুনরাবৃত্তি।
