থানায় হামলাকারী গ্রেফতারকৃত মিজানুর রহমান মিজান
গাইবান্ধার পলাশবাড়ী থানার নীরবতা যেন হঠাৎ করেই ভেঙে যায় উত্তেজনা আর সংঘর্ষের ঝড়ো হাওয়ায়। অভিযোগপত্র হাতে নিয়ে থানায় প্রবেশ—সেই মুহূর্তে যেন সবকিছুই ছিল স্বাভাবিক। কিন্তু কথার পরতে পরতে জমে ওঠা উত্তাপ একসময় রূপ নেয় সহিংসতায়, আর সেই রাত হয়ে ওঠে রোমাঞ্চকর এক নাটকের মঞ্চ।
ওসির সঙ্গে তর্ক-বিতর্কের এক পর্যায়ে পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছে যায়, যেখানে সংযম হারিয়ে ফেলেন উপস্থিত নেতাকর্মীরা। মুহূর্তেই শুরু হয় ধস্তাধস্তি, তারপর মারধর—রক্তাক্ত হন ওসিসহ ৮ পুলিশ সদস্য। থানার দেয়াল যেন সাক্ষী হয়ে থাকে সেই উত্তাল মুহূর্তগুলোর।
ঘটনার পর আইন তার নিজস্ব গতিতে এগোতে শুরু করে। শুক্রবার ভোরের নিস্তব্ধতায়, পুলিশের যৌথ অভিযানে নিজ বাড়ি থেকেই গ্রেপ্তার হন মিজানুর রহমান মিজান (৩৫)—যিনি একসময় ছিলেন ছাত্ররাজনীতির পরিচিত মুখ, পরে পেশাজীবী বিভাগের দায়িত্বশীল নেতা।
এই গল্পে যেন আছে ক্ষমতার ছায়া, আবেগের বিস্ফোরণ আর আইনের কঠোরতা—সব মিলিয়ে এক অদ্ভুত টানটান উত্তেজনা।

এর আগে একই মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন আরেক নেতা তৌহিদুল ইসলাম কানন। তবে এখনও অধরা প্রধান আসামি মাহমুদ হাসান পলাশ—যাকে ধরতে পুলিশের একাধিক দল কাজ করে যাচ্ছে।
ওসি সারোয়ার আলম খানের ভাষায়, “আইনের হাত দীর্ঘ—এক এক করে সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে। পলাশবাড়ীর সেই রাত যেন এখনো ফিসফিস করে বলে— কিছু গল্প শুধু ঘটনা নয়, হয়ে ওঠে ইতিহাসের উত্তপ্ত অধ্যায়। আইনের সঠিক প্রয়োগ শিক্ষা নেবে দুস্কৃতিকারীদের পক্ষের শক্তি।
