রাজধানীর শাহবাগে শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। ছবি: সংগৃহীত
রামেকের আইসিইউতে জীবন থেমে যাওয়ার করুণ গল্প—অবহেলা, নীরবতা আর হারানো আস্থার বিরুদ্ধে মন্ত্রীর কঠোর হুঁশিয়ারী।
নিঃশব্দ আইসিইউ, নিভে যাওয়া ছোট ছোট প্রাণ…
মাত্র ১১ দিনের ব্যবধানে একে একে ঝরে গেল ৩৩টি শিশুর জীবন। আর এই নির্মম বাস্তবতাই যেন ক্ষোভের আগুন জ্বালিয়ে দিল স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুলের হৃদয়ে।
শনিবার রাজধানীর শাহবাগে শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারের এক অনুষ্ঠানে দাঁড়িয়ে তিনি যেন আর নিজেকে ধরে রাখতে পারেননি। তার কণ্ঠে ছিল হতাশা, ক্ষোভ আর তীব্র বেদনার বিস্ফোরণ— এতগুলো শিশুর মৃত্যু হয়েছে, অথচ আমাদের জানানো হয়নি—ভেন্টিলেটর নেই! এটা শুধু দুঃখজনক নয়, অমার্জনীয়। তাকে ফাঁসির কাষ্ঠে চড়ানো উচিত। এই বক্তব্য শুধু একটি মন্তব্য নয়, যেন এক শোকাহত অভিভাবকের আর্তনাদ—একটি সিস্টেমের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ।
মন্ত্রী জানান, প্রথমে হাসপাতালের পরিচালক বিষয়টি অস্বীকার করলেও পরে পাওয়া প্রতিবেদনে গণমাধ্যমের তথ্যই সত্য প্রমাণিত হয়। সময়ের জটিলতায় সরকারি প্রক্রিয়া যখন ধীর, তখন তিনি নিজ উদ্যোগে এগিয়ে এসেছেন—ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় ইতোমধ্যে তিনটি ভেন্টিলেটর সংগ্রহ করা হয়েছে, আরও দুটি আনার চেষ্টা চলছে।
এই ঘটনার পেছনে লুকিয়ে থাকা অবহেলা আর দায়হীনতা যেন প্রশ্ন তুলছে পুরো স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর। মন্ত্রীও সে কথাই মনে করিয়ে দিয়েছেন— রোগীর জীবন শুধু চিকিৎসার বিষয় নয়, এটি আস্থা আর দায়িত্বের এক গভীর সম্পর্ক।
তিনি চিকিৎসকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন,রোগীরা আমাদের ওপর বিশ্বাস রাখে। সেই বিশ্বাস ভেঙে গেলে শুধু একটি জীবন নয়, ভেঙে যায় অসংখ্য স্বপ্ন।
অতিরিক্ত কাজের চাপ, ক্লান্তি—এসবের মাঝেও দায়িত্বশীলতার কোনো বিকল্প নেই বলেও মনে করিয়ে দেন তিনি। পাশাপাশি অনৈতিক আচরণের অভিযোগ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতিতে দক্ষ হওয়ার ওপর জোর দেন।
নিজের অভিজ্ঞতা টেনে মন্ত্রী বলেন, অনেক সময় অপ্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচার এড়ানো সম্ভব—যদি সঠিক পরামর্শ ও বিকল্প পথ খোঁজা যায়।
সবশেষে, এই হৃদয়বিদারক ঘটনার পর একটাই বার্তা স্পষ্ট— স্বাস্থ্যখাতে সেবার মান, জবাবদিহিতা আর মানবিকতা নিশ্চিত করতে এখনই জাগতে হবে সবাইকে।
