মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে গতকাল শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বাংলাদেশ গণসংগীত সমন্বয় পরিষদ আয়োজিত অনুষ্ঠানে গণসংগীত, নৃত্য ও আবৃত্তি পরিবেশন করেন শিল্পীরা ছবি:সংগৃহীত
মহান স্বাধীনতা দিবসের আবেগে ভেসে উঠল রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ। যেন এক রোমাঞ্চময়, হৃদয়ছোঁয়া মিলনমেলা—গণসংগীতের সুর, আবৃত্তির আবেগ আর নৃত্যের ছন্দে তৈরি হলো এক মোহময় সন্ধ্যা, যেখানে স্বাধীনতার ভালোবাসা ছুঁয়ে গেল প্রতিটি দর্শকের হৃদয়।
বাংলাদেশ গণসংগীত সমন্বয় পরিষদের আয়োজনে শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টায় শুরু হওয়া এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে উপস্থিত দর্শক-শ্রোতারা ডুবে যান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি আর দেশপ্রেমের উষ্ণ আবহে। সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি শিল্পী কাজী মিজানুর রহমান। শুরুতেই সংক্ষিপ্ত আলোচনায় গণসংগীতশিল্পী ফকির সিরাজ, সাধারণ সম্পাদক মানজার চৌধুরী সুইটসহ অন্যান্য বক্তারা স্বাধীনতার চেতনা জাগিয়ে রাখতে গণসংগীতের শক্তির কথা তুলে ধরেন—কণ্ঠে ছিল দৃঢ়তা, কথায় ছিল ভালোবাসার গভীর স্পর্শ।
এরপর মঞ্চজুড়ে শুরু হয় সুরের মায়াজাল। ঋষিজ শিল্পীগোষ্ঠীর কণ্ঠে ‘পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে’ যেন নতুন ভোরের প্রতিশ্রুতি হয়ে ছড়িয়ে পড়ে, আর ‘নোঙর তোলো তোলো’ গানে জেগে ওঠে স্বাধীনতার অদম্য আহ্বান। ক্রান্তি, বহ্নিশিখা, সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠীসহ বিভিন্ন দল একের পর এক পরিবেশনায় সৃষ্টি করে আবেগঘন মুহূর্ত—কখনো চোখ ভিজে ওঠে, কখনো বুক ভরে যায় গর্বে।
‘ধনধান্য পুষ্প ভরা’ গানে যখন ওঠে একসুরে কণ্ঠ, তখন মনে হয়—এই মাটির প্রতি ভালোবাসাই যেন আমাদের সবচেয়ে বড় পরিচয়। গণসংগীতের পাশাপাশি নৃত্যের মূর্ছনায়ও মুগ্ধতা ছড়ায় স্পন্দন ও ধৃতি নর্তনালয়ের দলীয় পরিবেশনা। একক সংগীতে অলোক দাশগুপ্ত, অমিত হিমেলসহ শিল্পীরা সুরের কোমলতায় ছুঁয়ে দেন দর্শকের হৃদয়। আবৃত্তির আবেগে মঞ্চ হয়ে ওঠে আরও প্রাণবন্ত—শব্দের ভাঁজে ভাঁজে ফুটে ওঠে মুক্তিযুদ্ধের গল্প, ভালোবাসা আর আত্মত্যাগের অনুরণন।
সবশেষে শিশুদের অংশগ্রহণ যেন এই আয়োজনকে দেয় নতুন আশার আলো। মৈত্রী শিশু দলের নিষ্পাপ পরিবেশনা মনে করিয়ে দেয়—স্বাধীনতার এই গল্প থেমে নেই,প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে তা বয়ে চলেছে ভালোবাসার বন্ধনে। পুরো আয়োজন যেন এক প্রেমের কবিতা—দেশের প্রতি,স্বাধীনতার প্রতি,আর মানুষের হৃদয়ের গভীরতম অনুভূতির আবহ বিরাজ করছে।এ আনন্দ ভাগাভাগি করতে নেটিজেনরা ও একাত্বতা প্রকাশ করেন।
