উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাইল ছবি সংগৃহীত
ঢাকার কেরানীগঞ্জে প্রশাসনিক ক্ষমতার আড়ালে আইনের শাসন প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে। আদালতের সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও তা বাস্তবায়ন না করে নতুন করে “মনগড়া” আদেশ দেওয়ার অভিযোগে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র বিতর্ক ও উত্তেজনা।
অভিযোগ বলছে, ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩ এর ২০ ধারার অধীনে আদালতের জারি করা আদেশ বাস্তবায়ন না করে ইউএনও ওমর ফারুক একই আইনের সীমাবদ্ধতা উপেক্ষা করে নতুন নির্দেশ দেন—যা সরাসরি আইনের লঙ্ঘন ও আদালত অবমাননার শামিল হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। আবার ঘটনার পেছনে রয়েছে জমি ও দোকানঘর নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে একটি দেওয়ানী মামলা বিচারাধীন রয়েছে (মামলা নং-৮৯/২০২৬)। আইন অনুযায়ী, এমন পরিস্থিতিতে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের সুযোগ না থাকলেও অভিযোগ রয়েছে—সেই নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ঘুষ, চাপ ও ভয়—অভিযোগের জাল বিস্তৃত। তবে
অভিযোগ আরও গুরুতর আকার নিয়েছে ইউএনও কার্যালয়ের অফিস সহকারী আমির উদ্দিনকে ঘিরে। অভিযোগকারী ফারুক হোসেন দাবি করেছেন, মামলার নথি আদালতে উপস্থাপনের আশ্বাস দিয়ে তার কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, পরবর্তীতে মৌখিকভাবে নতুন আদেশ বাস্তবায়নের জন্য চাপ প্রয়োগ ও পুলিশি হুমকিও দেওয়া হয়।
এদিকে সম্মতির নামে নতুন নাটক সাজানো হচ্ছে। ১৬ মার্চ ইউএনও কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে “উভয়পক্ষের সম্মতি” দেখিয়ে একটি নতুন আদেশ দেওয়া হয়। কিন্তু বিবাদীপক্ষের দাবি—এমন কোনো সম্মতি তারা দেননি। এই আদেশটি অফিসিয়ালভাবে জারি না করে মৌখিক চাপের মাধ্যমে বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হয়, যা পুরো ঘটনাকে আরও রহস্যময় করে তোলে।
তালা ভাঙা, উত্তেজনা, আবার তালাবদ্ধ, ২৯ মার্চ এসিল্যান্ড ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দোকানের তালা ভেঙে ফেলা হয়। এতে স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে দেওয়ানী মামলার বিষয়টি জানার পর আবার দোকানটি তালাবদ্ধ করে দেওয়া হয় এবং আদালতের রায়ের অপেক্ষা করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
পৈত্রিক সম্পত্তি নাকি পরিকল্পিত দখল? ফারুক হোসেনের ভাষ্য অনুযায়ী, বিতর্কিত জমিটি তাদের পৈত্রিক সম্পত্তি—১৯৩৫ সালের রেজিস্ট্রিকৃত দলিল এবং ১৯৬৭ সালের দানপত্রের মাধ্যমে তাদের পরিবারের মালিকানা প্রতিষ্ঠিত। তার অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে প্রতিপক্ষ একটি সাজানো মামলার মাধ্যমে জমি দখলের অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
নীরব ইউএনও-বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওমর ফারুক কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি—যা প্রশ্ন আরও ঘনীভূত করছে। নীরবতার অর্থ কি দোষ স্বীকার? নাকি সত্যকে আড়াল করার চেষ্টা? এমনটাই ভাবিয়ে তুলেছে নেটিজেনদের। একজন প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তার নতজানু আচরণে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সর্বস্তরের মানুষ।
আইন, ক্ষমতা ও ন্যায়ের এই টানাপোড়েনে শেষ কথা বলবে আদালতই—তবে ততদিন পর্যন্ত কেরানীগঞ্জে এই ঘটনার প্রতিটি মোড় যেন একেকটি নাটকীয় অধ্যায় হয়ে উঠছে।
