একটি কলম, কিছু সত্য আর অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন কণ্ঠ—এই ছিল তার ‘অপরাধ’। আর সেই অপরাধের শাস্তি হিসেবে জীবন দিতে হলো তরুণ সাংবাদিক দ্বীন ইসলামকে। কসবার এই সাহসী সংবাদকর্মীর নির্মম হত্যাকাণ্ডে শোক, ক্ষোভ আর প্রতিবাদের আগুনে জ্বলছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর।
গত ২৫ মার্চ ২০২৬, বুধবার সকাল। নবীনগর সদরের জেলা পরিষদ ডাক বাংলোর সামনে জমে ওঠে এক হৃদয়বিদারক মানববন্ধন। ব্যানারে, প্ল্যাকার্ডে আর কণ্ঠে কণ্ঠ মিলিয়ে একটাই দাবি—“দ্বীন ইসলামের হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার করে সর্বোচ্চ শাস্তি দিতে হবে।
অনলাইন নিউজ পোর্টাল “তালাশ ক্রাইম দৃষ্টি”-এর এই নির্ভীক সাংবাদিক সত্য প্রকাশ করতে গিয়ে হয়ে উঠেছিলেন অনেকের চোখের কাঁটা। বক্তাদের ভাষ্যমতে, অন্যায় ও মাদক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ায় প্রথমে তাকে মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয়। এরপর এক গভীর রাতে তাকে নিজ বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে ঘাতকেরা। নিথর দেহটি ফেলে রাখা হয় মুরাদনগরের এক খালে—যেন সত্যকেই চিরতরে ডুবিয়ে দিতে চেয়েছিল তারা।
এদিকে মানববন্ধনে উপস্থিত সাংবাদিকরা একে একে ক্ষোভে, ব্যথায় আর প্রতিবাদে কাঁপিয়ে দেন পরিবেশ। আনোয়ার বিন খলিলুর, জাবেদ আহমেদ জীবন, আব্দুল্লা আল মতিন, শাহিন রেজা টিটু, সোহেল খান, রোহান আহমেদ, আশরাফুল হক, ফজলে রাব্বি পাপ্পু, হাজী মো. কাউছার আহমেদ, আব্দুল্লা আল মামুন, শেখ মিহাদ, খলিল পরদেশী, লিটন মিয়া (মেম্বার), সালমান জমাদ্দার, সফিকুল ইসলাম শরীফ, মাজেদুল ইসলাম মন্টি, সঞ্জয় শীলসহ অনেকে জোরালো বক্তব্য রাখেন।
আবার তাদের প্রতিবাদী বক্তব্যে ছিল ক্ষোভের আগুন, চোখে ছিল শোকের জল। দ্বীন ইসলামের রক্ত বৃথা যেতে দেওয়া হবে না। এই হত্যার বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমরা রাজপথ ছাড়ব না। এমন শ্লোগানে মূখরিত করে তোলে উপস্থিত জনতা।
একজন সহকর্মীর কণ্ঠ যেন ভেঙে যাচ্ছিল— সে শুধু সংবাদ করতো না, সে অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করতো। আজ সে নেই, কিন্তু তার সাহস আমাদের মাঝে বেঁচে থাকবে। মানববন্ধনের প্রতিটি মুহূর্তে ছিল বেদনার ভার, প্রতিবাদের ঝড় আর ন্যায়বিচারের আকুতি।
তবে শেষে একটাই সুর— দ্রুত তদন্ত, অবিলম্বে গ্রেফতার, এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি—এটাই এখন সময়ের দাবি।
