ফাইল ছবি
বাংলা গান ও কবিতার আকাশে এক চিরসবুজ নক্ষত্র—কবি আবদুল হাই মাশরেকী। মানুষের সুখ-দুঃখ, প্রেম-বিরহ আর সমাজের বেদনার ভাষা হয়ে ওঠা এই কবির ১১৭তম জন্মবার্ষিকী আগামীকাল বুধবার (১ এপ্রিল)।
তার লেখা “আল্লাহ মেঘ দে পানি দে ছায়া দে”—যে গানে বাঙালির হৃদয় আজও ভিজে ওঠে, “মাঝি বাইয়া যাও রে” কিংবা “আমার বাড়ি যাইও বন্ধু”—এসব কালজয়ী সৃষ্টির স্রষ্টা মাশরেকী শুধু একজন কবি নন, তিনি ছিলেন মানুষের মনের গভীরতম আবেগের অনুবাদক।
ভর্তি কবি ১৯০৯ সালের ১ এপ্রিল ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার কাঁকনহাটি গ্রামে জন্ম নেওয়া এই প্রতিভাবান শৈশব থেকেই গান ও কবিতার প্রতি অনুরাগী ছিলেন। সময়ের নির্মমতা, হত্যা ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে তিনি তাঁর কলমকে করেছেন প্রতিবাদের শক্তিশালী অস্ত্র। বাংলা সাহিত্যে অন্যায়ের বিরুদ্ধে কবিতাকে সংগ্রামের ভাষায় রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর অবদান অনন্য।
এদিকে কবির জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে নানা আয়োজন গ্রহণ করেছে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠন। কবির জন্মভূমি ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের মিলনায়তনে সকাল ১২টায় কবি আবদুল হাই মাশরেকী পরিষদের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হবে স্মরণসভা, সমাধি জিয়ারত, কোরআন তেলাওয়াত ও দোয়া মাহফিল।
আবার অন্যদিকে, ঢাকাস্থ কবি আবদুল হাই মাশরেকী গবেষণা কেন্দ্র ও জনপ্রশাসন পত্রিকার যৌথ উদ্যোগে চারদিনব্যাপী কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে আগামী ১৭ ও ১৮ এপ্রিল শিশু-কিশোরদের জন্য চিত্রাঙ্কন, সঙ্গীত, নৃত্য ও কবিতা আবৃত্তি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত।
এছাড়া আগামী ২ ও ৩ মে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির চিত্রশালা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে বিশেষ অনুষ্ঠান “মাশরেকী বন্দনা”—যেখানে কবির জীবন, কর্ম ও সৃষ্টিকে ঘিরে থাকবে শ্রদ্ধা, ভালোবাসা আর স্মৃতির আবহ।
তবে কালের আবর্তে হারিয়ে গেলেও বেঁচে থাকা প্রেম, প্রতিবাদ আর মানবতার কবি আবদুল হাই মাশরেকী আজও বেঁচে আছেন তাঁর অমর সৃষ্টি আর মানুষের হৃদয়ের গভীরে। তাঁর জন্মদিন শুধু একটি স্মরণ নয়—এটি বাঙালির আবেগ, চেতনা ও সাহিত্যের প্রতি এক নতুন করে ভালোবাসার প্রতিশ্রুতি। তিনি আজও প্রতিটি মানুষের হৃদয়ের গভীরে, বেঁচে থাকবেন গ্রন্থের মোড়কে, তিনি আজও অমর।
