সাবেক এমপি শিবলী সাদিকের স্ত্রী খাদিজা মল্লিক সীমু ওরফে শিমলা
দিনাজপুরে এক হৃদয়বিদারক ঘটনায় আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। দিনাজপুর-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শিবলী সাদিকের দ্বিতীয় স্ত্রী খাদিজা মল্লিক সীমু (শিমলা) আত্মহত্যার চেষ্টা করে বর্তমানে হাসপাতালে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে লড়ছেন।
সোমবার সন্ধ্যায় হাকিমপুর উপজেলার বাবার বাড়িতে অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ সেবন করে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। দ্রুত তাকে দিনাজপুর জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশনে ভর্তি করা হলে চিকিৎসকরা তাকে আইসিইউতে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখেন। কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, তিনি আপাতত স্থিতিশীল থাকলেও পরিস্থিতি এখনো ঝুঁকিপূর্ণ।
এদিকে অভিমান, যন্ত্রণা আর না বলা গল্পের দীর্ঘ সাত বছর গেলেও অনেক গোপন রহস্য প্রকাশ করেনি খাদিজা। পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক ও মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন খাদিজা। চিকিৎসকের পরামর্শে নিয়মিত ঘুমের ওষুধ সেবন করতেন। তবে এদিন সেই ওষুধই হয়ে ওঠে বিপদের কারণ।
আবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের ভাঙা মনের কথা উজাড় করে দিয়ে তিনি লিখেছেন— আমি যথেষ্ট শক্ত ছিলাম, কিন্তু আর পারছি না। সাত বছরের অন্যায় আর সহ্য করতে পারছি না। আমি শান্তিতে ঘুমাতে চাই।
তার এই কথাগুলো যেন এক নারীর গভীর অভিমান, অব্যক্ত কষ্ট আর ভেঙে পড়া ভালোবাসার নিঃশব্দ, আর্তনাদ হয়ে উঠেছে।
তবে ভালোবাসার ইতিহাস, বিচ্ছেদের ছায়া, শিবলী সাদিকের ব্যক্তিগত জীবনও কম নাটকীয়তা নয়। ২০১১ সালে কণ্ঠশিল্পী সালমার সঙ্গে বিয়ে,২০১৬ সালে বিচ্ছেদ,
২০১৯ সালে খাদিজা মল্লিক সীমুর সঙ্গে দ্বিতীয় বিয়ে।কিন্তু সেই সম্পর্কও শেষ পর্যন্ত সুখের ঠিকানায় পৌঁছাতে পারেনি—এমন ইঙ্গিত মিলছে খাদিজার আবেগঘন লেখায়।
অভিযোগের তীর, নীরবতা ও প্রশ্ন উঠেছে। নিজের পোস্টে কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে তিনি অভিযোগ করেছেন দীর্ঘদিনের অন্যায় ও জুলুমের কথা। এমনকি নিজের এই চরম সিদ্ধান্তের জন্যও তিনি স্বামীসহ কয়েকজনকে দায়ী করেছেন বলে উল্লেখ করেন তার লেখায়।
এক মায়ের শেষ আকুতি মিনতি করে সাজিয়ে লিখে।
সবচেয়ে হৃদয় ছুঁয়ে যায় তার সন্তানের জন্য লেখা কথাগুলো— স্নেহা, তুমি ভালো থেকো মা… তুমি আমার জন্য যথেষ্ট লড়েছো। একজন মায়ের এই ভালোবাসা আর বিদায়ের সুর পাঠকের হৃদয়ে গভীর দাগ কাটে।
উল্লেখ্য,এ ঘটনাটি শুধু একটি পরিবারের নয়, বরং আমাদের সমাজে মানসিক স্বাস্থ্য, সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং নীরব কষ্টের এক নির্মম প্রতিচ্ছবি। সমাজে এর ব্যাপকতা বৃদ্ধি পাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সর্বস্তরের মানুষ।
