শুক্রবার, ৩রা এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পল্লী কবির স্মৃতিমাখা সন্ধ্যায় ফরিদপুরে আবেগঘন গ্রন্থ উন্মোচন

মোঃমাহফুজুর রহমান বিপ্লব
এপ্রিল ২, ২০২৬ ১০:০৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ফরিদপুরের আকাশে যেন আবারও ভেসে উঠলো গ্রামীণ বাংলার সেই চিরচেনা সুর—ধানক্ষেতের হাওয়া,কাঁসার থালার শব্দ,আর নকশিকাঁথার গল্প। পল্লী কবি জসীম উদ্দিনের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ফরিদপুরে অনুষ্ঠিত হলো এক আবেগঘন,স্মৃতিময় হৃদয়ছোঁয়া আয়োজন-—মৃত্যুঞ্জয়ী জসিম উদ্দিন গ্রন্থের প্রকাশনা উৎসব।

বৃহস্পতিবার বিকেলের স্নিগ্ধ আলোয় জেলা শিশু একাডেমি মিলনায়তন যেন রূপ নেয় এক সাহিত্যিক তীর্থভূমিতে। জেলা প্রশাসন ও জসিম ফাউন্ডেশন, ফরিদপুরের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সমাজের নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ—সাহিত্যপ্রেমী,সংস্কৃতিমনা,আর কবির ভক্তরা।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান মোল্যার সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা (মন্ত্রীর পদমর্যাদা) মোঃ ইসমাইল জবিউল্লাহ। বিশেষ অতিথিদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি পায় ভিন্ন মাত্রা—সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ,মোঃ শহিদুল ইসলাম বাবুল, পুলিশ সুপার মোঃ নজরুল ইসলাম (পিপিএম),জেলা পরিষদের প্রশাসক আফজাল হোসেন খান পলাশ,সিভিল সার্জন ডা. হাসান মাহমুদসহ বিশিষ্টজনেরা ছিলেন সেখানে।

এদিকে বক্তারা যখন কথা বলছিলেন,তখন যেন শব্দের ভাঁজে ভাঁজে ফুটে উঠছিলো বাংলার মাটির গন্ধ। তারা বললেন—জসীম উদ্দিন শুধুই একজন কবি নন, তিনি বাংলার প্রাণ,গ্রামীণ জীবনের অমলিন প্রতিচ্ছবি। তাঁর লেখায় প্রেম আছে,বেদনা আছে,আছে মাটির মানুষের হাসি-কান্না—যা যুগ যুগ ধরে বাঙালির হৃদয়ে বেঁচে থাকবে।

তবে অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল‘মৃত্যুঞ্জয়ী জসিম উদ্দিন’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন। বইটি যেন কবির স্মৃতিকে নতুন করে ছুঁয়ে দেখার এক সেতুবন্ধন—যেখানে অতীত আর বর্তমান মিলেমিশে তৈরি করেছে এক অনন্ত অনুভূতি।

এরপর শুরু হয় সাংস্কৃতিক পর্ব—গান,কবিতা আবৃত্তি আর নৃত্যের মাধ্যমে জীবন্ত হয়ে ওঠে পল্লী কবির সৃষ্টি। প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণের মাধ্যমে শেষ হয় এক প্রাণবন্ত সন্ধ্যা।

এর আগে প্রধান অতিথির ফরিদপুর আগমন উপলক্ষে জেলা সার্কিট হাউজে তাকে জানানো হয় ফুলেল শুভেচ্ছা। রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে সেই মুহূর্তও হয়ে ওঠে উৎসবমুখর পরিবেশের নতুন আবহ।

আবার সব মিলিয়ে,এই আয়োজন যেন শুধুই একটি অনুষ্ঠান নয়—এ ছিলো স্মৃতির আলপনা আঁকার এক মায়াবী প্রচেষ্টা,যেখানে জসীম উদ্দিনের কবিতা আবারও শোনালো— এই মাটির কাছেই আমার ফিরে আসা…”।
ফরিদপুর সেই দিন যেন আবারও ফিরে পেয়েছিল তার প্রিয় পল্লী কবিকে—শব্দে,সুরে,আর স্মৃতি গাঁথা আত্মজীবনীতে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।