অর্থ আর প্রভাবের চকচকে মুখোশের আড়ালে লুকিয়ে থাকা এক বিস্ময়কর কাহিনি—যেন ধীরে ধীরে খুলে যাচ্ছে এক রহস্যের পর্দা। কাস্টমস ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং (সিঅ্যান্ডএফ) এজেন্ট মো. ফয়সাল চৌধুরীর নাম ঘিরে এখন তুমুল আলোচনার ঝড়। প্রায় চার কোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের সন্ধান পেয়ে তার বিরুদ্ধে মামলার পথে হাঁটছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
এদিকে দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে চমকপ্রদ তথ্য—২০২২ সালের ২৪ এপ্রিল জমা দেওয়া সম্পদ বিবরণীতে তিনি উল্লেখ করেছিলেন ১৪ কোটি ৩১ লাখ টাকার সম্পদ। অথচ যাচাই-বাছাই শেষে বেরিয়ে আসে সম্পদের প্রকৃত পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৫ কোটি ৩১ লাখ টাকা! অর্থাৎ গোপন করা হয়েছিল বিশাল অঙ্কের সম্পদ, যেন সত্যকে আড়াল করে সাজানো হয়েছিল এক নিখুঁত মায়াজাল।
তবে অনুসন্ধান কর্মকর্তা,দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক মো.রাশেদুল ইসলাম ইতোমধ্যেই প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন,যেখানে ফয়সালের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের সুপারিশ করা হয়েছে।নতুন কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পরই এই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে মামলার অনুমোদন দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
আবার তদন্তের গভীরে গিয়ে দেখা যায়,পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয়সহ ফয়সালের মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪২ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। অথচ বৈধ উৎসে পাওয়া গেছে মাত্র ৩৯ কোটি ২ লাখ টাকা। এই হিসাবের ফাঁকেই যেন জন্ম নিয়েছে এক গোপন অন্ধকার—প্রায় ৩ কোটি ৮৬ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ!
দুদক বলছে,এই সম্পদ অর্জন দুর্নীতি দমন কমিশন আইন-২০০৪-এর ২৭(১) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
মেসার্স অনুভব বিজনেস অ্যাজেন্সির মালিক ফয়সাল চৌধুরীর এই গল্প যেন শুধুই সংখ্যার হিসাব নয়—এ যেন ক্ষমতা,লোভ আর গোপন সত্যের এক রোমাঞ্চকর উপাখ্যান,যার শেষ অধ্যায় এখনো লেখা বাকি…।
