লালমনিরহাটের শান্ত গ্রাম হঠাৎই রক্তে রঞ্জিত—সম্পর্কের বন্ধন ছিন্ন করে নির্মমতার এক হৃদয়বিদারক অধ্যায়ের জন্ম দিল জমি বিরোধ। চাচা-ভাতিজার সেই চিরচেনা স্নেহের সম্পর্ক পরিণত হলো রক্তাক্ত সংঘর্ষে,আর তারই মর্মান্তিক পরিণতিতে প্রাণ হারালেন তরুণ আখতারুজ্জামান (২৮)।
ঘটনাটি ঘটেছে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার পূর্ব ফকিরপাড়া এলাকায়। দীর্ঘদিন ধরে আবাদি জমি ও বসতভিটা নিয়ে চলা বিরোধ যেন আগুনের নিচে চাপা থাকা অঙ্গারের মতোই ছিল। অবশেষে বৃহস্পতিবার বিকেলে সেই অঙ্গার দাউ দাউ করে জ্বলে ওঠে।
কথা কাটাকাটির উত্তাপে সম্পর্কের দেয়াল ভেঙে পড়ে—চাচা শাহিনুর রহমান,আব্দুল মতিন ও নুরুজ্জামানের সঙ্গে আখতারুজ্জামানের সংঘর্ষ শুরু হয়। একসময় সেই উত্তেজনা রূপ নেয় নির্মম সহিংসতায়। লাঠির আঘাতে গুরুতরভাবে আহত হন আখতারুজ্জামান—যেন প্রতিটি আঘাত ছিল রক্তের সম্পর্কের উপর নিষ্ঠুর আঘাত।
স্থানীয়দের প্রাণপণ চেষ্টায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। কিন্তু অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে তাকে স্থানান্তর করা হয় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানেই জীবনের সঙ্গে শেষ লড়াই করে শুক্রবার সকালে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান তিনি। নিহত আখতারুজ্জামান ওই এলাকার রফিকুল ইসলামের ছেলে—পরিবারের বড় সন্তানের এমন করুণ পরিণতিতে শোকে স্তব্ধ পুরো এলাকা।
হাতীবান্ধা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রমজান আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান,এই নৃশংস ঘটনার সঙ্গে জড়িত অভিযোগে নিহতের চাচা আব্দুল মতিনকে আটক করা হয়েছে। বাকি আসামিদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরও জানান,ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। এক টুকরো জমি—যেখানে ফসল জন্মানোর কথা, সেখানেই জন্ম নিল রক্ত, প্রতিশোধ আর ভাঙা সম্পর্কের নির্মম ইতিহাস…।
