পাবনা প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। ছবি: সংগৃহীত
ডিজিটাল যুগের দ্রুতগামী স্রোতে, যেখানে এক ক্লিকেই ছড়িয়ে পড়ে হাজারো খবর—সেখানে সত্য আর অনুমানের সূক্ষ্ম সীমারেখা যেন প্রতিনিয়ত ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে। ঠিক সেই মুহূর্তে দৃঢ় কণ্ঠে উচ্চারিত হলো সতর্কবার্তা—ফ্যাক্টচেক ছাড়া কোনো অনুমাননির্ভর সংবাদ নয়, কখনোই নয়।
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন শুক্রবার রাতে পাবনা প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এই আহ্বান জানান। তার কণ্ঠে ছিল দায়িত্বশীলতার দৃঢ়তা, আর কথায় ছিল সত্যের প্রতি এক গভীর অঙ্গীকার।
তিনি বলেন, ইউটিউবসহ নানা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রতিনিয়ত তথ্য ছড়িয়ে পড়ছে, আর এই প্রবাহে যাচাইহীন সংবাদ যেন না ঢুকে পড়ে—সেই দায়িত্ব নিতে হবে সাংবাদিকদেরই। গণমাধ্যমকে তিনি দেখেন সমাজের আয়না হিসেবে—যেখানে সত্য প্রতিফলিত হয় নির্মোহভাবে। তাই তিনি মনে করিয়ে দেন, স্বাধীনতা মানেই সীমাহীনতা নয়; বরং দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সত্য তুলে ধরার এক মহৎ প্রতিশ্রুতি।
মন্ত্রী আরও জানান, দেশের প্রতিটি জেলায় সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ করতে একটি করে প্রেস ক্লাব গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। গণমাধ্যমের গঠনমূলক সমালোচনাকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, সেই সমালোচনাকেই পথচলার প্রেরণা হিসেবে গ্রহণ করছে সরকার। তার বক্তব্যে উঠে আসে আরেকটি স্পর্শকাতর প্রসঙ্গ—গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর অতীতে হওয়া নির্যাতন। তিনি বলেন, সেই অন্ধকার সময়ের প্রতিটি ঘটনার হিসাব রাখা হচ্ছে, তৈরি করা হচ্ছে একটি তালিকা। কারণ, ইতিহাসের সেই ক্ষত যেন বিস্মৃতির আড়ালে হারিয়ে না যায়।
আবার গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব অংশীদারের সঙ্গে ইতোমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি। সরকারের বয়স অল্প হলেও প্রতিশ্রুতির পথে এগিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
এই সভায় উপস্থিত ছিলেন পাবনা প্রেস ক্লাবের সভাপতি আখতারুজ্জামান আক্তারসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও সাংবাদিক মহলের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। আলোচনার আবহে ছিল দায়িত্ববোধ, প্রত্যাশা আর এক নতুন সূচনার সম্ভাবনা।
তবে এর আগে, সন্ধ্যার আলো ফুরানোর আগেই পাবনা শহরের স্বাধীনতা চত্বরে আট দিনব্যাপী বইমেলার উদ্বোধন করেন মন্ত্রী—যেখানে জ্ঞানের আলো ছড়ানোর সেই চিরন্তন আহ্বান আবারও প্রতিধ্বনিত হয়। সত্যের পথে এই আহ্বান যেন কেবল একটি বক্তব্য নয়—বরং এক ধরনের নৈতিক প্রতিজ্ঞা, যেখানে সংবাদ হবে নির্ভুল, তথ্য হবে যাচাই করা, আর গণমাধ্যম হবে মানুষের আস্থার সবচেয়ে দৃঢ়।
