আগুনে পুড়ে যাওয়া গ্যাসলাইট কারখানায় ফায়ার সার্ভিসকর্মীরা। ছবি: ফায়ার সার্ভিসের সৌজন্যে
ঢাকার কেরানীগঞ্জের কদমতলী এলাকা—যেখানে সাধারণ দিনের মতোই চলছিল কাজের ব্যস্ততা, সেখানেই হঠাৎ যেন আগুনের লেলিহান শিখা গ্রাস করে নেয় একটি গ্যাসলাইট তৈরির টিনশেড কারখানাকে। মুহূর্তেই চারপাশ ঢেকে যায় ধোঁয়ার কালো চাদরে, আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকায়।
শনিবার দুপুর সোয়া ১টার দিকে অগ্নিকাণ্ডের খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। প্রথমে তিনটি ইউনিট ছুটে আসে আগুনের সঙ্গে লড়াইয়ে, পরে পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝে বাড়ানো হয় ইউনিটের সংখ্যা—এক, দুই, তিন… শেষ পর্যন্ত সাতটি ইউনিট একসঙ্গে লড়ে আগুনের বিরুদ্ধে।
দাউদাউ জ্বলতে থাকা সেই আগুন অবশেষে নিয়ন্ত্রণে আসে দুপুর আড়াইটার দিকে। কিন্তু আগুন নিভলেও রয়ে যায় এক হৃদয়বিদারক নিস্তব্ধতা—ধ্বংসস্তূপের ভেতর লুকিয়ে থাকা করুণ বাস্তবতা।

বিকেল ৪টা ৪৪ মিনিটে, আগুন নিয়ন্ত্রণের পর শুরু হয় অনুসন্ধান। আর সেখান থেকেই একে একে উদ্ধার করা হয় পাঁচটি মরদেহ—যাদের পরিচয়, এমনকি নারী না পুরুষ, সেটিও তখনো স্পষ্ট নয়। আগুন যেন শুধু একটি কারখানাই নয়, কেড়ে নিয়েছে কয়েকটি অচেনা জীবনের সব পরিচয়ও।
ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ জানিয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি। ধ্বংসস্তূপে এখনো চলছে অনুসন্ধান—আর প্রতিটি মুহূর্ত যেন নিয়ে আসছে নতুন শঙ্কা।

লেলিহান শিখার সেই বিকেল আজ পরিণত হয়েছে এক নিঃশব্দ বেদনার গল্পে—যেখানে আগুন নিভে গেছে, কিন্তু রেখে গেছে অজানা মানুষের না-ফেরা পথের গভীর দাগ।
