এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদের বিরুদ্ধে ঝাড়ু মিছিল করেছে বিএনপি। ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রামের চন্দনাইশ—সবুজে ঘেরা শান্ত জনপদ হঠাৎই রূপ নিল উত্তেজনার মঞ্চে। রাজনৈতিক আবেগ, ক্ষোভ আর প্রতিবাদের তীব্রতায় শনিবার বিকেলে গাছবাড়িয়া কলেজ গেইট এলাকা হয়ে ওঠে সরব, উত্তাল, আর প্রতীকী প্রতিরোধের এক নাটকীয় দৃশ্যপট।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে কটূক্তি এবং স্বাধীনতার ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদের বিরুদ্ধে ঝাড়ু মিছিল বের করে উপজেলা বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনগুলো। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচিতে অংশ নেন অসংখ্য নেতাকর্মী—যাদের কণ্ঠে ছিল প্রতিবাদের আগুন, আর হাতে ছিল প্রতীকী ঝাড়ু।
এদিকে সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে বিএনপি নেতারা যেন ছুঁড়ে দেন একের পর এক তীক্ষ্ণ বার্তা। সাবেক সাধারণ সম্পাদক এমএ হাশেম রাজু দৃঢ় কণ্ঠে ঘোষণা করেন—কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে চন্দনাইশ ও সাতকানিয়ার মাটিতে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হলো। শুধু তাই নয়, আনোয়ারা ও পটিয়া হয়ে চন্দনাইশে প্রবেশের সব পথও তার জন্য নিষিদ্ধ বলে জানান তিনি।
সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন সিরাজুল ইসলাম সওদাগর, আব্দুল মাবুদ মাহবুব, মুর্শিদুল আলম মুন্না, যুবদল নেতা জাহাঙ্গীর আলম, হারুনুর রশিদ, সেকান্দার বাদশা, আরিফুল ইসলাম মারুফ এবং সাবেক ভিপি আব্দুর রউফ প্রমুখ। তাদের বক্তব্যে উঠে আসে একটাই সুর—স্বাধীনতার ইতিহাস বিকৃতির বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান এবং দলীয় নেতৃত্বের সম্মান রক্ষায় রাজপথে থাকার অঙ্গীকার।
আবার ঝাড়ুর প্রতীকী ঝাঁঝ আর স্লোগানের তীব্রতায় চন্দনাইশের বিকেল যেন হয়ে ওঠে এক প্রতিবাদের কবিতা—যেখানে আবেগ, রাজনীতি আর প্রতিরোধ একসঙ্গে লিখে যায় উত্তাল এক দিনের গল্প।
