দীর্ঘদিনের জমাটবাঁধা অপেক্ষা যেন হঠাৎ বসন্তের ঝরনার মতো গলে যেতে শুরু করেছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর আকাশে অবশেষে নেমেছে স্বস্তির নরম আলো। ১৯৭ জন সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলীকে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে চলতি দায়িত্ব প্রদান—এ যেন শুধু একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং বহুদিনের অবহেলা আর অচলাবস্থার গহ্বর থেকে উঠে আসা নতুন প্রাণের স্পন্দন।
গত ২ এপ্রিল স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে জারি হওয়া প্রজ্ঞাপন যেন এক নতুন সূর্যোদয়ের বার্তা বয়ে এনেছে। সততা, নিষ্ঠা আর দূরদর্শিতার মিশেলে গড়া নেতৃত্বের দিকনির্দেশনায় এই সিদ্ধান্ত এলজিইডির ক্লান্ত শরীরে জুগিয়েছে নতুন রক্তসঞ্চার।
স্বাধীনতার পর থেকে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের যে মহাকাব্য রচনা করেছে এলজিইডি, তা যেন কিছুটা থমকে গিয়েছিল জনবল সংকটের অদৃশ্য বেড়াজালে। শূন্য পড়ে থাকা নির্বাহী প্রকৌশলীর শত শত পদ—একটি সম্ভাবনাময় প্রতিষ্ঠানের পথচলাকে ধীর করে দিচ্ছিল নীরবে। কিন্তু এবার সেই নিস্তব্ধতার বুক চিরে এসেছে পরিবর্তনের সুর।
এই পদায়নের মাধ্যমে শুধু পদ পূরণ হয়নি, বরং জেগে উঠেছে নতুন আশা—মাঠে-ঘাটে, গ্রাম থেকে শহরে উন্নয়নের ছন্দ আবারও দৌড়াবে দুরন্ত গতিতে।
তবে এই গল্পের ভেতরেও লুকিয়ে আছে কিছু অন্ধকার ছায়া। অতীতের প্রভাব, সুবিধাভোগীদের দখল আর অনিয়মের জাল এখনো পুরোপুরি কাটেনি। প্রত্যাশা করা হচ্ছে—অতীতের বিতর্কিত নিয়োগপ্রাপ্ত প্রকল্প পরিচালকদের দ্রুত অপসারণ এবং অর্থ অপচয় রোধ করা গেলে, এলজিইডি আবারও তার পুরনো দাপট ফিরে পাবে।
এ প্রসঙ্গে সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী (প্রশাসন) মোঃ শফিকুল ইসলাম পদোন্নতিপ্রাপ্ত সকল কর্মকর্তার পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কর্মকর্তাদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তাঁর কণ্ঠে ছিল আত্মবিশ্বাসের দৃঢ়তা— সঠিক সময়ে নেওয়া সঠিক সিদ্ধান্ত এলজিইডির কর্মযাত্রাকে আরও বেগবান করবে।
সব মিলিয়ে, এটি কেবল একটি প্রশাসনিক পরিবর্তন নয়—এ যেন দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ফিরে পাওয়া ভালোবাসার মতো, যেখানে আশা আর সম্ভাবনা হাত ধরাধরি করে এগিয়ে চলেছে একটি উজ্জ্বল আগামীয়ের দিকে।
