সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান (ফাইল ছবি)
জাতীয় সংসদের গম্ভীর পরিবেশ যেন এক মুহূর্তে রঙিন স্বপ্নে ভরে উঠল—যেন শিক্ষার প্রতি এক গভীর ভালোবাসার গল্প শোনালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দৃঢ় কণ্ঠে, অথচ ভবিষ্যতের প্রতি কোমল অঙ্গীকারে ভরা ভাষায় তিনি জানালেন—দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিতে ইতোমধ্যেই ৪৩টি ক্ষেত্র চিহ্নিত করে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে।
বুধবার সংসদ অধিবেশনে বিএনপির সংসদ সদস্য সেলিম রেজার প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষা কেবল উন্নয়নের উপকরণ নয়—এটি জাতির আত্মার আলো। সেই আলো ছড়িয়ে দিতে নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী ধাপে ধাপে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার এক মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার।
প্রধানমন্ত্রী যেন এক স্বপ্নচিত্র আঁকলেন—দেশের প্রতিটি উপজেলায় টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ, আর প্রতিটি জেলায় পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট গড়ে উঠবে। যেন প্রতিটি তরুণ-তরুণীর হাতে তুলে দেওয়া হবে দক্ষতার চাবিকাঠি, জীবনের নতুন দিগন্তের দরজা খুলে দেওয়ার জন্য।
তিনি বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। চলতি অর্থবছরেই ২ লাখ শিক্ষার্থীর হাতে তুলে দেওয়া হবে বিনামূল্যের স্কুল ড্রেস—যেন প্রতিটি শিশুর চোখে সমান স্বপ্নের রঙ লাগে। আর তাদের পুষ্টির কথা ভেবে পর্যায়ক্রমে চালু করা হবে স্কুল ফিডিং বা মিড-ডে মিল কর্মসূচি—যেন শিক্ষা আর জীবনের বন্ধন আরও দৃঢ় হয়।
ডিজিটাল বাংলাদেশের ছোঁয়ায় শিক্ষাকেও আধুনিকতার কোমল আলিঙ্গনে জড়িয়ে নেওয়ার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম, দেড় হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফ্রি ওয়াই-ফাই এবং প্রতিটি শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের জন্য ‘এডু-আইডি’—সবকিছু মিলিয়ে যেন প্রযুক্তি আর শিক্ষার এক মধুর মিলন ঘটতে যাচ্ছে।
কারিগরি শিক্ষাকে আরও আকর্ষণীয় ও বাধ্যতামূলক করার অঙ্গীকার জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী ১৮০ দিনের মধ্যেই দেশের হাজারো কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফ্রি ওয়াই-ফাই চালু হবে। পাশাপাশি মাদ্রাসা শিক্ষায় আসবে আধুনিকতার ছোঁয়া—স্মার্ট ক্লাসরুম, দক্ষ শিক্ষক এবং যুগোপযোগী কারিগরি কোর্স।
প্রধানমন্ত্রী জানান, তরুণ প্রজন্মকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় এগিয়ে নিতে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, সাইবার সিকিউরিটি, পাইথন প্রোগ্রামিংসহ আধুনিক প্রযুক্তি বিষয়ে প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে—যেন তাদের স্বপ্নগুলো ডানা মেলে উড়তে পারে বিশ্ব আকাশে।
নারী শিক্ষার প্রসঙ্গেও ছিল তার গভীর অঙ্গীকারের সুর। বিএনপির সংসদ সদস্য ইকরামুল বারী টিপুর প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রতিটি উপজেলা সদরে একটি করে মহিলা কলেজ সরকারিকরণের বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছে সরকার—যেন প্রতিটি মেয়ের শিক্ষার পথ হয় আরও নিরাপদ, উজ্জ্বল ও সম্ভাবনাময়।
প্রধানমন্ত্রীর কণ্ঠে যেন বারবার ফিরে আসছিল একটি কথাই—শিক্ষা শুধু নীতির বিষয় নয়, এটি ভালোবাসার মতোই যত্নে লালন করার এক অঙ্গীকার। আর সেই অঙ্গীকারেই ধীরে ধীরে গড়ে উঠছে এক আলোকিত, দক্ষ ও স্বপ্নময় বাংলাদেশ।
