ছবি-সংগৃহীত
বিশ্ব অর্থনীতির আকাশে যখন যুদ্ধের কালো মেঘ জমে, তার ছায়া নেমে আসে হাজার মাইল দূরের মানুষের জীবনেও। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত সংঘাত যেন নিঃশব্দে কাঁপিয়ে দিচ্ছে বাংলাদেশের কোমল অর্থনীতিকে—ভেঙে দিচ্ছে অসংখ্য স্বপ্ন, থামিয়ে দিচ্ছে এগিয়ে যাওয়ার পথ।
বুধবার প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের “বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট”-এ উঠে এসেছে এক উদ্বেগময় চিত্র। সংস্থাটি আশঙ্কা করছে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে নতুন করে প্রায় ১২ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যেতে পারে।
একসময় যে অর্থনীতি আশা জাগিয়েছিল উন্নয়নের আলো, সেখানে এখন যেন ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ছে অনিশ্চয়তার কুয়াশা। ২০২২ থেকে ২০২৫—এই সময়টাতে দারিদ্র্য বিমোচনের গতি থমকে গেছে। উৎপাদনশীল কর্মসংস্থানের অভাব, শ্রমিকদের আয় বৃদ্ধির ধীরগতি এবং লাগামছাড়া মূল্যস্ফীতি—সব মিলিয়ে মানুষের জীবনে তৈরি হয়েছে এক অদৃশ্য চাপ, যা নিঃশব্দে কেড়ে নিচ্ছে স্বস্তি।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য বলছে, ২০২২ সালে দারিদ্র্যের হার ছিল ১৮.৭ শতাংশ। কিন্তু বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, এই হার বেড়ে ২০২৫ সালে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২১.৪ শতাংশে। অর্থাৎ, প্রতিটি সংখ্যার পেছনে লুকিয়ে আছে হাজারো পরিবারের অপ্রকাশিত কষ্টের গল্প—ভাঙা স্বপ্ন, অসমাপ্ত আশা।
আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে (প্রতিদিন ৩ ডলার আয়) গত তিন বছরে অতিরিক্ত ১৪ লাখ মানুষ দারিদ্র্যের ছায়ায় হারিয়ে গেছে। আর ২০২৬ সালে ঘুরে দাঁড়ানোর যে ক্ষীণ আলো দেখা যাচ্ছিল, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত সেই আলোটুকুকেও ঢেকে দিতে পারে—এমনই সতর্কবার্তা দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অর্থনীতিবিদরা এই বাস্তবতার কথাই তুলে ধরেন। তাদের কণ্ঠে ছিল সতর্কতা, আবার কোথাও এক চাপা উদ্বেগ—যেন সময় ফুরিয়ে যাওয়ার আগে কিছু করার তাগিদ।
এই প্রতিবেদনের প্রতিটি শব্দ যেন বলে— অর্থনীতি শুধু সংখ্যা নয়, এটি মানুষের গল্প। আর সেই গল্পে এখন লেখা হচ্ছে সংগ্রামের নতুন অধ্যায়, যেখানে প্রতিটি স্বপ্ন লড়ছে টিকে থাকার জন্য।
