বৃহস্পতিবার, ৯ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৬শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

প্রবৃদ্ধির হৃদস্পন্দন ধীর—৩.৯ শতাংশে নামার শঙ্কা, অর্থনীতির পুনর্জাগরণে জরুরি সংস্কারের ডাক বিশ্বব্যাংকের

নিজস্ব প্রতিবেদক
এপ্রিল ৮, ২০২৬ ৯:২৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

বাংলাদেশের অর্থনীতি যেন এক ক্লান্ত পথিক—অগ্রগতির দীর্ঘ যাত্রায় হঠাৎ থমকে দাঁড়িয়েছে। চারদিকে চ্যালেঞ্জের চাপ, ভেতরে জমে থাকা দুর্বলতা, আর বাইরে থেকে আসা বৈশ্বিক ঝড়—সব মিলিয়ে প্রবৃদ্ধির স্বপ্ন আজ কিছুটা ম্লান, কিছুটা অনিশ্চিত।

বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ “বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট” প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই বাস্তবতার নির্মম প্রতিচ্ছবি। সংস্থাটি পূর্বাভাস দিয়েছে, চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি কমে ৩.৯ শতাংশে নেমে আসতে পারে—যা সাম্প্রতিক বছরের তুলনায় একটি বড় ধাক্কা।

এদিকে গত তিন বছর ধরে প্রবৃদ্ধির গতি ধীর। একই সঙ্গে বেড়েছে দারিদ্র্যের চাপ, দীর্ঘস্থায়ী হয়েছে উচ্চ মূল্যস্ফীতি। ব্যাংকিং খাতের ভঙ্গুরতা, রাজস্ব আদায়ের দুর্বলতা—সবকিছু মিলিয়ে অর্থনীতির ভিত যেন একটু একটু করে নরম হয়ে যাচ্ছে।

আবার তার ওপর নতুন করে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত—এক অদৃশ্য ঝড়ের মতো এসে আরও নাজুক করে তুলছে পরিস্থিতিকে। এই সংঘাতের প্রভাবে বাড়তে পারে জ্বালানির ব্যয়, ফুলে উঠতে পারে ভর্তুকির বোঝা, কমে যেতে পারে রপ্তানি ও রেমিট্যান্স। ফলে চলতি হিসাবের ভারসাম্যও পড়তে পারে চাপে।

তবে প্রতিবেদনে এও সতর্ক করা হয়েছে—কম বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, কঠোর রাজস্ব ও মুদ্রানীতি এবং দুর্বল ব্যাংকিং খাতের কারণে দীর্ঘস্থায়ী ধাক্কা সামলানোর সক্ষমতা এখন সীমিত। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে অতি দরিদ্র জনগোষ্ঠী—যাদের জীবন প্রতিদিনই এক নতুন লড়াই।

তবে এই অন্ধকারের মাঝেও আছে সম্ভাবনার এক ঝলক আলো। বিশ্বব্যাংক বলছে, জাতীয় নির্বাচনের পর যদি টেকসই রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকে এবং দ্রুত কাঠামোগত সংস্কার এগিয়ে নেওয়া যায়, তবে অর্থনীতি আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারে—ফিরে পেতে পারে তার হারানো গতি।

সংস্থাটি জোর দিয়েছে— রাজস্ব আয় বাড়ানো, আর্থিক খাতকে শক্তিশালী করা, ব্যবসা-বান্ধব পরিবেশ তৈরি এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার ওপর। কারণ, এই পথেই লুকিয়ে আছে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির নতুন দিগন্ত।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অর্থনীতিবিদদের কণ্ঠে শোনা গেছে সেই একই সুর— এখনই সময় সাহসী সিদ্ধান্তের, এখনই সময় পরিবর্তনের।

অর্থনীতির গল্পে আজ এক রোমাঞ্চকর সন্ধিক্ষণ—
যেখানে প্রতিটি সংস্কার হতে পারে নতুন ভোরের শুরু,
আর প্রতিটি সঠিক পদক্ষেপ ফিরিয়ে আনতে পারে হারিয়ে যাওয়া প্রবৃদ্ধির স্পন্দন।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।