ইরান যুদ্ধ নিয়ে রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি : সংগৃহীত
মার্কিন রাজনীতির আকাশে যেন হঠাৎ করেই জমেছে কালো মেঘ। ক্ষমতার অলিন্দে, গোপন ফিসফাস এখন রূপ নিয়েছে প্রকাশ্য ঝড়ে। কয়েক বছর আগে নীরব ষড়যন্ত্রের মতো যে আলোচনা হয়েছিল, আজ তা যেন বজ্রপাতের মতোই প্রকাশ্যে—Donald Trump-কে অপসারণে আবারও সামনে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের বহুল আলোচিত ২৫তম সংশোধনী।
ইরানের সভ্যতা ধ্বংসের হুমকি—একটি বাক্য, কিন্তু তার অভিঘাত যেন আগুনের ফুলকি হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে আমেরিকার রাজনীতির প্রতিটি প্রান্তে। ডেমোক্র্যাটদের পাশাপাশি এবার কট্টর ডানপন্থী ও ট্রাম্পের সাবেক ঘনিষ্ঠরাও মুখ খুলেছেন। যেন ভালোবাসা আর অবিশ্বাসের দ্বন্দ্বে জর্জরিত এক রাজনৈতিক নাটক—যেখানে একসময়কার মিত্ররাই আজ প্রশ্ন তুলছেন নেতার মানসিক স্থিতি নিয়ে।
ইলিনয়ের গভর্নর J. B. Pritzker থেকে শুরু করে নানা প্রভাবশালী কণ্ঠ—সবাই যেন একই সুরে বলছেন, “সময় এসেছে কঠিন সিদ্ধান্তের।” এমনকি ষড়যন্ত্র তত্ত্বের জন্য পরিচিত Alex Jones-ও প্রশ্ন তুলেছেন—কীভাবে প্রয়োগ করা যায় এই সাংবিধানিক অস্ত্র?
এক অদ্ভুত মোড়ে এসে দাঁড়িয়েছে পরিস্থিতি—যেখানে রিপাবলিকান শিবিরের ভেতর থেকেও ভাঙনের সুর। Marjorie Taylor Greene নিজের পোস্টে লিখেছেন শুধু দুটি শব্দ—“২৫তম সংশোধনী”—কিন্তু সেই শব্দ যেন হাজারো বিস্ফোরণের সমান শক্তিশালী। আর ডানপন্থী কণ্ঠ Candace Owens সরাসরি দাবি তুলেছেন—“এখনই সময়।”
ট্রাম্পের একসময়কার ঘনিষ্ঠ সহযোগী Anthony Scaramucci তো আরও এক ধাপ এগিয়ে বলেন—“তিনি পারমাণবিক হুমকি দিচ্ছেন, এখনই তাঁকে সরান।” এই আহ্বানে যেন মিশে আছে হতাশা, ক্ষোভ, আর এক ধরনের ভাঙা বিশ্বাসের বেদনা।
এমনকি রক্ষণশীল বিশ্লেষকরাও আর নীরব নন। David French বলছেন—পরিস্থিতি এতটাই স্পষ্ট, অথচ মানুষ যেন অনুভূতিহীন হয়ে গেছে। আর সাবেক মিডিয়া তারকা Tucker Carlson ট্রাম্পকে আখ্যা দিয়েছেন ‘ধ্বংসাত্মক শক্তি’ হিসেবে—যেন এক নাটকের ট্র্যাজিক নায়ক, যার পতন অনিবার্য।
তবে এই গল্পের বাস্তবতা আরও কঠিন, আরও জটিল। ২৫তম সংশোধনী প্রয়োগ কোনো আবেগের সিদ্ধান্ত নয়—এটি এক কঠিন সাংবিধানিক প্রক্রিয়া। ভাইস প্রেসিডেন্ট J. D. Vance এবং মন্ত্রিসভার সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের সমর্থন ছাড়া এই পদক্ষেপ সম্ভব নয়। আর এখনো পর্যন্ত তাদের পক্ষ থেকে এমন কোনো ইঙ্গিত মেলেনি।
তবুও, এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো—এই আলোচনা নিজেই। কারণ এটি শুধু একজন নেতাকে ঘিরে নয়, বরং একটি দেশের ভবিষ্যৎ, একটি যুদ্ধের সম্ভাবনা, আর ক্ষমতার সীমারেখা নিয়ে গভীর প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
শেষ পর্যন্ত, এই রাজনৈতিক উপাখ্যান যেন এক অদ্ভুত প্রেম-ঘৃণার গল্প—যেখানে ক্ষমতা, আনুগত্য আর বিশ্বাস একে অপরের সঙ্গে লড়াই করে। আর সেই লড়াইয়ের মঞ্চে দাঁড়িয়ে এখন পুরো বিশ্ব তাকিয়ে আছে—পরবর্তী দৃশ্যের অপেক্ষায়…।
