ফাইল ছবি সংগৃহীত
নাজিরপুরের নীরব গ্রাম, যেখানে সন্ধ্যা নামলে শুধু ঝিঁঝিঁ পোকার শব্দ শোনা যায়—সেই শান্ত পরিবেশের আড়ালেই দীর্ঘদিন ধরে বোনা হচ্ছিল এক অন্ধকার গল্প। প্রেমের ছদ্মবেশে অপরাধ, আর ক্ষমতার ছায়ায় ভয়ঙ্কর এক সাম্রাজ্য—যার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল রিফাত কাজী।
অবশেষে সেই গল্পের নাটকীয় পরিসমাপ্তি ঘটলো।
পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার কথিত শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ী রিফাত কাজীকে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার শ্যামপুর এলাকা থেকে গত ১ এপ্রিল একটি বিশেষ অভিযানে আটক করেছে র্যাব-২ এর একটি চৌকস টিম।
রিফাত কাজী—নাজিরপুর উপজেলার শেখমাটিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম বুইচাকাঠী গ্রামের আলমগীর কাজীর ছোট ছেলে। একসময় স্থানীয় রাজনীতির ছায়ায় বেড়ে ওঠা এই তরুণ, এখন নিষিদ্ধ ঘোষিত নাজিরপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত।
পুলিশ জানায়, শুধু মাদক নয়—তার বিরুদ্ধে রয়েছে আরও অন্ধকার অভিযোগ। গত ৬ মার্চ এক তরুণীকে অপহরণের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। মায়ের আর্তি আর চোখের জলে ভেজা সেই অভিযোগই শেষ পর্যন্ত আইনের দুয়ারে পৌঁছে দেয় রিফাতকে।
নাজিরপুর থানার এসআই সরোয়ার হোসেন জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে র্যাব তাকে রাজধানী থেকে আটক করে। পরে তাকে যাত্রাবাড়ী থানায় হস্তান্তর করা হয় এবং সেখান থেকে নাজিরপুর থানা পুলিশ তাকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে আদালতে প্রেরণ করে।
স্থানীয়দের মুখে শোনা যায় আরেক গল্প—এক ভয়ঙ্কর, অস্বস্তিকর বাস্তবতা। তাদের দাবি, সাবেক এই ছাত্রলীগ নেতা বিগত সরকারের সময় প্রকাশ্যেই ইয়াবা বেচাকেনা করত। শুধু তাই নয়, প্রেমের নামে প্রতারণা, মেয়েদের উত্যক্ত করা, আর এলাকায় আধিপত্য বিস্তারে নানা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাত সে।
ক্ষমতার পালাবদলের পর কিছুদিন আড়ালে থাকলেও, সময়ের ব্যবধানে আবার ফিরে আসে সে—পুরনো ছায়া নিয়ে, নতুন করে অন্ধকার ছড়াতে।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত আইন তার পিছু ছাড়েনি।
রিফাতের এই গল্প যেন এক সতর্কবার্তা—
প্রেমের নামে প্রতারণা, আর ক্ষমতার আড়ালে অপরাধ—
কখনোই শেষ পর্যন্ত আলো থেকে পালাতে পারে না।
