মুন্সীগঞ্জের নীরব ভোরে, যখন কুয়াশার চাদরে ঢেকে ছিল প্রকৃতি, ঠিক তখনই শুরু হয় এক দমবন্ধ করা অভিযান। সদর উপজেলার পঞ্চসারের দুর্গাবাড়ি ও সিপাহিপাড়া এলাকা যেন হঠাৎই জেগে ওঠে কঠোর পদচারণায়। কোস্ট গার্ডের সেই অভিযানে উন্মোচিত হয় নদী আর জীববৈচিত্র্যের বিরুদ্ধে লুকিয়ে থাকা এক নিষ্ঠুর ষড়যন্ত্র।
শুক্রবার সকাল ৭টায় পরিচালিত এই বিশেষ অভিযানে ভেঙে ফেলা হয় তিনটি অবৈধ জাল কারখানা ও দুটি গোপন গোডাউন। সেখান থেকে উদ্ধার করা হয় প্রায় ৩ কোটি ৯৭ লাখ ৪৫ হাজার মিটার নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল—যেন অসংখ্য মাছের জীবনের ওপর বিছানো এক অদৃশ্য মৃত্যুর জাল। সঙ্গে ছিল ৩০ হাজার পিস সুতার রিল, যা তৈরি করছিল এই ধ্বংসযজ্ঞের অব্যাহত অস্ত্র।
সব মিলিয়ে যার বাজারমূল্য দাঁড়ায় বিস্ময়কর ১৩৯ কোটি ২৯ লাখ টাকা—একটি সংখ্যার আড়ালে লুকিয়ে ছিল প্রকৃতির ওপর নির্মম আঘাতের গল্প।
কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, উদ্ধারকৃত এসব জাল ও সুতার রিল মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার উপস্থিতিতে ধ্বংস করা হয়েছে। যেন নদীর বুক থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে এক অদৃশ্য শ্বাসরোধী ফাঁদ।
তিনি আরও বলেন, মৎস্য সম্পদ রক্ষায় আমাদের এই লড়াই থামবে না। নদীকে বাঁচাতে, জীবনের স্রোতকে টিকিয়ে রাখতে—এ ধরনের অভিযান চলতেই থাকবে।
এই অভিযানের মধ্য দিয়ে যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পেল নদী। ঢেউয়ের ছন্দে আবারও বাজতে শুরু করল জীবনের সুর—ভালোবাসার মতোই নির্মল, মুক্ত আর অবাধ।
