সিআইডির হাতে গ্রেপ্তার দুইজন। ছবি: সংগৃহীত
স্বল্প সময়ে আকাশছোঁয়া লাভের মোহ—যেন এক মায়াবী ভালোবাসার প্রতিশ্রুতি। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতির আড়ালে লুকিয়ে ছিল নিখুঁত প্রতারণার জাল। অবশেষে সেই জাল ছিঁড়ে বেরিয়ে এলো ভয়ংকর সত্য—প্রায় ৮৬ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মাসুম রানা ও শামীম আক্তার। বুধবার গভীর রাতে দিনাজপুর থেকে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি) ইউনিট তাদের গ্রেপ্তার করে।
সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (গণমাধ্যম) জসীম উদ্দিন খান জানান, নারায়ণগঞ্জে বিআইডব্লিউটিএ’তে কর্মরত সালেহ আহাম্মদ খান একদিন হঠাৎ করেই একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে পরিচিত হন এই প্রতারক চক্রের সদস্যদের সঙ্গে। শুরু হয় কথোপকথন—বিশ্বাস, আস্থা আর মোহের এক অদ্ভুত সম্পর্ক। তারা ‘ড্রিমপায়ারিং এমসিএস লিমিটেড’ নামে একটি তথাকথিত কোম্পানির গল্প শোনায়, যেখানে বিনিয়োগ করলেই মিলবে স্বপ্নের মতো লাভ।
প্রতারকরা পাঠায় চুক্তিপত্র—কাগজে-কলমে সব ঠিকঠাক, যেন ভালোবাসার অঙ্গীকারপত্র। সেই মায়ায় ডুবে গিয়ে ভুক্তভোগী নিজের সঞ্চয়, অফিসের অর্থ, এমনকি স্ত্রীর স্বর্ণ বন্ধক রেখে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ধাপে ধাপে ৮৫ লাখ ৮৭ হাজার ৪০০ টাকা তুলে দেন তাদের হাতে।
প্রতিবারই প্রতারকরা আশ্বাস দেয়—“লাভ আসছে, একটু অপেক্ষা করুন”—যেন মধুর প্রতিশ্রুতির অন্তহীন ধারা। কিন্তু সময় যত গড়িয়েছে, ততই সেই প্রতিশ্রুতি হয়ে উঠেছে প্রতারণার নির্মম ছলনা। যোগাযোগ করলে কখনো নতুন ঠিকানা, কখনো নতুন অজুহাত—শুধুই হয়রানি।
অবশেষে ঢাকার সেগুনবাগিচায় তাদের দেওয়া ঠিকানায় গিয়ে ভুক্তভোগী বুঝতে পারেন—এখানে কোনো কোম্পানি নেই, নেই কোনো স্বপ্ন, আছে শুধু শূন্যতা। তখনই ভেঙে পড়ে সেই বিশ্বাসের প্রাসাদ।
নিজেকে প্রতারিত বুঝে তিনি নারায়ণগঞ্জ সদর থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলার পর সিআইডির সাইবার ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড অপারেশনস ইউনিট প্রযুক্তির সূক্ষ্ম বিশ্লেষণে নেমে পড়ে। ডিজিটাল ছাপ অনুসরণ করে তারা খুঁজে পায় অভিযুক্তদের অবস্থান—দিনাজপুরে।
এরপর বুধবার রাত পৌনে ৮টার দিকে বিরামপুরের উত্তর কাটলা এলাকা থেকে মাসুম রানাকে এবং রাত সাড়ে ১২টার দিকে শামীম আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। এই ঘটনাটি যেন আবারও মনে করিয়ে দেয়—সব প্রলোভনই ভালোবাসা নয়, কিছু কিছু প্রলোভন শুধু ধ্বংসের ফাঁদ।
