শনিবার, ১১ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৮শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ক্ষমতার মোহে লুকানো অন্ধ প্রেম: বদলি বাণিজ্যে শতকোটি টাকার ঘুষ—দুদকে অভিযোগে ঘিরে আসিফ নজরুল

তাবাসসুম স্নেহা
এপ্রিল ১১, ২০২৬ ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

ক্ষমতার করিডোরে কখনো কখনো জন্ম নেয় এক অদ্ভুত সম্পর্ক—লোভ, প্রভাব আর গোপন লেনদেনের এক অদৃশ্য বন্ধন। সেই বন্ধনের আবরণ ভেদ করে এবার সামনে এলো বিস্ফোরক অভিযোগ—বদলি বাণিজ্যের আড়ালে শতকোটি টাকার ঘুষ লেনদেন!

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল এবং তাঁর পিএস, যুগ্ম সচিব শামসুদ্দিন মাসুম-এর বিরুদ্ধে এই গুরুতর অভিযোগ জমা পড়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক)। অভিযোগটি দায়ের করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এম. সরোয়ার হোসেন।

বুধবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে, যেন নীরব এক নাটকের মঞ্চে, অভিযোগটি জমা পড়ে। নিয়ম অনুযায়ী, দুদকের যাচাই-বাছাই কমিটি এখন অভিযোগটি খতিয়ে দেখবে—যেন সত্য আর মিথ্যার মাঝখানে দাঁড়িয়ে বিচার খুঁজছে সময়।

অভিযোগে বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে পরবর্তী বছরের এপ্রিল—মাত্র আট মাসে—আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনে ২৮৬ জন সাব-রেজিস্ট্রারের বদলির মাধ্যমে শতকোটি টাকার ঘুষ লেনদেন হয়েছে। প্রতিটি বদলি যেন ছিল একেকটি চুক্তি, একেকটি নীরব সমঝোতা—যেখানে নিয়ম নয়, অর্থই ছিল প্রধান ভাষা।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, জনপ্রতি ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকার বিনিময়ে পছন্দের জায়গায় বদলি নিশ্চিত করা হয়েছে। কেউ কেউ প্রতিশ্রুত অর্থ দিতে না পারায় বদলির আদেশ স্থগিত হয়েছে—যেন অসমাপ্ত প্রেমের মতো হঠাৎ থেমে যাওয়া এক যাত্রা।

নিয়ম-নীতির বাঁধন ভেঙে এই বদলির খেলায় এ, বি, সি গ্রেডের ভারসাম্যও উপেক্ষিত হয়েছে। এক অফিস থেকে অন্য অফিসে, কখনো যোগদানের আগেই আবার নতুন আদেশ—সবকিছু মিলিয়ে যেন এক বিশৃঙ্খল নাটক, যেখানে চরিত্রগুলো নিজেরাই জানে না তাদের পরিণতি কী।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, নিবন্ধন অধিদপ্তরের ৪০৩ জন সাব-রেজিস্ট্রারের মধ্যে অন্তত ২৮২ জনকে বদলি করা হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ২০০ জন ঘুষের মাধ্যমে সুবিধাজনক পোস্টিং পেয়েছেন। এত অল্প সময়ে এত ব্যাপক বদলির ঘটনা আগে কখনো দেখা যায়নি।

পরিস্থিতি এতটাই বেপরোয়া হয়ে ওঠে যে, গত বছরের ১ জুন আইন মন্ত্রণালয় বাধ্য হয়ে একটি সতর্কতা জারি করে। সেখানে স্পষ্টভাবে বলা হয়—বদলি ও পদায়নে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেনের সুযোগ নেই। কিন্তু ততক্ষণে অনেকটাই দেরি হয়ে গেছে—ঘটনাগুলো যেন আগুনের মতো ছড়িয়ে পড়েছিল।

বর্তমানে দুদকে কমিশন না থাকায় অভিযোগটির পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধান স্থগিত রয়েছে। নতুন কমিশন যোগ দেওয়ার পর এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এই ঘটনাটি যেন আবারও প্রমাণ করে—ক্ষমতার সঙ্গে জড়ানো সম্পর্ক সবসময় বিশ্বাসের নয়, কখনো কখনো তা হয়ে ওঠে এক গভীর প্রতারণার গল্প, যেখানে ভালোবাসার জায়গা দখল করে নেয় লোভ আর লেনদেনের নির্মম বাস্তবতা।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।