কখনও কখনও কিছু শব্দ তীরের মতো বিদ্ধ করে হৃদয়, আবার কিছু মিথ্যা গল্প নিঃশব্দে ক্ষত তৈরি করে সম্মানের দেয়ালে। ঠিক তেমনই এক অদৃশ্য আঘাতের মুখোমুখি হয়েছেন গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী কামরুল ইসলাম—যার দীর্ঘদিনের সৎ ও নিষ্ঠাবান কর্মজীবন হঠাৎ করেই প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে কিছু ভিত্তিহীন, হয়রানিমূলক সংবাদে।
গণপূর্ত বিভাগ ঢাকা থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন জেলায় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তিনি গড়ে তুলেছেন আস্থার এক শক্ত ভিত। সহকর্মীদের শ্রদ্ধা, ঊর্ধ্বতনদের আস্থা এবং নিজের পেশাগত সততার আলোয় আলোকিত ছিল তার পথচলা। কিন্তু সেই পথেই যেন হঠাৎ করে নেমে আসে অপপ্রচারের কালো ছায়া।
গত ১৪ মার্চ দৈনিক জাতীয়তাবাদ, বাঙালি সংবাদ, আজকের দেশ ডট কম, দৈনিক স্বাধীন কাগজ, খোলা জানালা অনলাইনপেজসহ কয়েকটি অনলাইন পোর্টালে প্রকাশিত কিছু সংবাদে তার বিরুদ্ধে তোলা হয়েছে টেন্ডার অনিয়মসহ নানা অভিযোগ—যার পেছনে নেই কোনো সুস্পষ্ট তথ্যপ্রমাণ। যেন কল্পনার কালি দিয়ে আঁকা হয়েছে এক বিকৃত প্রতিচ্ছবি। আর এই প্রতিচ্ছবিই ক্ষতবিক্ষত করেছে তার সযত্নে গড়ে তোলা সুনামের আয়না।
গভীর কণ্ঠে প্রতিবাদ জানিয়ে কামরুল ইসলাম বলেন,
সত্য যাচাই না করেই এমন সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে, যা শুধু আমার পেশাগত জীবন নয়, ব্যক্তিগত মর্যাদাকেও আঘাত করেছে। আমি সবসময় দায়িত্ব পালন করেছি সততা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে—এটাই আমার একমাত্র পরিচয়।
বিশেষ করে নোয়াখালী মেডিকেলের টেন্ডার সংক্রান্ত অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি দৃঢ়ভাবে জানান, তার দায়িত্বকালীন সময়ে কোনো ধরনের অনিয়ম হয়নি। এমনকি তিনি অন্যত্র বদলি হওয়ার পরও প্রকল্পের কাজ নিয়ম মেনেই চলমান রয়েছে। অথচ সেই প্রকল্পকেই কেন্দ্র করে তৈরি করা হয়েছে নানা বিভ্রান্তিকর গল্প, যা বাস্তবতার সঙ্গে একেবারেই অসংগত।
এছাড়া কিছু প্রতিবেদনে ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও ইঙ্গিতপূর্ণ ও অসংলগ্ন শব্দচয়ন করা হয়েছে—যেখানে নেই কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, নেই কোনো গ্রহণযোগ্য সাক্ষ্য। যেন শব্দগুলোই নিজেদের অর্থ হারিয়ে ফেলেছে দায়িত্বহীনতার ভারে।
কামরুল ইসলামের মতে, একটি অসাধু গোষ্ঠী নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য পরিকল্পিতভাবে আমাকে টার্গেট করেছে। তারা বারবার মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে আমাকে সামাজিক ও পেশাগতভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করছে। কিন্তু সত্যকে কখনও ঢেকে রাখা যায় না।
তার এই প্রতিবাদ যেন শুধু ব্যক্তিগত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ নয়, বরং সত্য ও ন্যায়ের প্রতি এক অবিচল বিশ্বাসের ঘোষণা। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এই ধরনের হয়রানিমূলক ও মিথ্যা প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে তিনি আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণসহ সর্বাত্মক প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন।
সময়ের স্রোতে অনেক কিছুই ভেসে যায়, কিন্তু সত্য তার নিজস্ব দীপ্তি নিয়ে ঠিকই জেগে ওঠে। আর সেই দীপ্তির আলোয় দাঁড়িয়ে কামরুল ইসলাম যেন নতুন করে লিখছেন নিজের গল্প—একজন সৎ ও দক্ষ সাবলীল, প্রজ্ঞাবান অফিসার। যিনি অপপ্রচারের ঝড়েও হার না মানা ব্যক্তিত্বের অধিকারী।
শেষ পর্যন্ত, এ যেন এক নীরব প্রতিজ্ঞা— মিথ্যার অন্ধকার যতই ঘন হোক, সত্যের আলো ঠিকই পথ দেখাবে। অপপ্রচারের মূখোশ উন্মোচিত হবে।
তিনি আরও বলেন, কতিপয় নীচুপ্রকৃতির গণপূর্ত বিভাগের অসাধু কর্মকর্তা ও ঠিকাদার যৌথভাবে তাদের হীনস্বার্থ চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে আমার সামাজিক ও পারিবারিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে। তারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার ব্যক্তিত্ব ও চরিত্রের ওপর জঘন্যতমভাবে কালিমা লেপনের চেষ্টা করছে।
আমার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের দুর্নীতি বা অনিয়মের প্রমাণ খুঁজে না পেয়ে তারা মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন অভিযোগ ছড়িয়ে আমাকে হেয়প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এমনকি তাদের এই অপকর্মের পরিধি এতটাই নিম্নমানের যে, আমার স্ত্রীর পেশাগত জীবনেও তারা অযাচিত হস্তক্ষেপ করে ক্ষতি করার চেষ্টা করেছে—যা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও অগ্রহণযোগ্য।
আমি এই ন্যাক্কারজনক কর্মকাণ্ডের তীব্র প্রতিবাদ ও ঘৃণা জানাচ্ছি। একইসঙ্গে স্পষ্টভাবে ঘোষণা করছি—তারা যদি তাদের উত্থাপিত অভিযোগের সামান্যতম প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারে, তবে আমি প্রচলিত আইন অনুযায়ী যে কোনো শাস্তি স্বেচ্ছায় মেনে নেব এবং প্রয়োজনে আমার পদ থেকে স্বেচ্ছায় ইস্তফা প্রদান করব।
পরিশেষে, আমি মহান আল্লাহর নিকট তাদের হেদায়েত কামনা করছি। পাশাপাশি এই দোয়া করি—তারা যদি তাদের অপকর্ম থেকে বিরত না হয়, তবে তাদের বিচার যেন মহান আল্লাহ নিজ হাতে সম্পন্ন করেন।
