ছবি : সংগৃহীত
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় সংঘাত, প্রতিহিংসা ও বিভাজনের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে সংলাপ, সহনশীলতা এবং অংশগ্রহণমূলক রাজনীতির পরিবেশ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ।
রোববার (৫ জুলাই) সকালে রাজধানীর গুলশানে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত দলের প্রেসিডিয়াম সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
সভার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব ও সাবেক মন্ত্রী এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার।
সভাপতির বক্তব্যে আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, সম্প্রতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রতিশোধের রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে দেশের বৃহত্তর স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার যে আহ্বান জানিয়েছেন, তা একটি ইতিবাচক বার্তা। দেশের স্বার্থে সব রাজনৈতিক দলের উচিত পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহনশীলতা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে এগিয়ে আসা।
তিনি বলেন, নির্বাচন ও রাষ্ট্র পরিচালনার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে কোনো রাজনৈতিক শক্তিকে অযথা বাইরে রেখে নয়, বরং সকলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেই একটি স্থিতিশীল ও গ্রহণযোগ্য রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
স্বাগত বক্তব্যে এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, জাতীয় পার্টি সব সময় গণতন্ত্র, সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা এবং শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক সংস্কৃতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। দেশের মানুষ এখন সংঘাত নয়, কার্যকর গণতন্ত্র, সুশাসন, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং জনকল্যাণমুখী রাজনীতি দেখতে চায়। জাতীয় পার্টি সেই প্রত্যাশা পূরণে দায়িত্বশীল রাজনৈতিক ভূমিকা পালন করে যাবে।
তিনি আগামী ১৪ জুলাই জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় কর্মসূচির পাশাপাশি জেলা, মহানগর, উপজেলা ও সব সাংগঠনিক ইউনিটে ব্যাপক কর্মসূচির মাধ্যমে এরশাদের মৃত্যুবার্ষিকী পালন করা হবে।
রুহুল আমিন হাওলাদার আরও বলেন, দলীয় নেতাকর্মীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে মরহুম এরশাদের রাজনৈতিক অবদান, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে হবে।
প্রেসিডিয়াম সভায় আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয় পার্টির নির্বাহী চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মো. মুজিবুল হক চুন্নু, সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট কাজী ফিরোজ রশীদ, কো-চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, সাহিদুর রহমান টেপা, মোস্তফা আল মাহমুদ, চেয়ারম্যানের বিশেষ সহকারী নাসরিন জাহান রতনা, প্রেসিডিয়াম সদস্য সোলায়মান আলম শেঠ, চেয়ারম্যানের আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত মাসরুর মাওলা, মো. জসিম উদ্দিন ভূঁইয়া, বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক নূরুল ইসলাম মিলন, সরদার মো. শাহজাহান, মোবারক হোসেন আজাদ, ফখরুল আহসান শাহজাদা, মো. বেলাল হোসেন, জাহাঙ্গীর হোসেন মানিক, জাহাঙ্গীর আহম্মেদ, জামাল রানা ও নাজনীন সুলতানাসহ দলের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
সভায় উপস্থিত সিনিয়র নেতারা জাতীয় পার্টিকে আরও শক্তিশালী ও সুসংগঠিত করতে তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার, নতুন সদস্য সংগ্রহ, তরুণ নেতৃত্বকে সামনে নিয়ে আসা এবং জনগণের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে মাঠে সক্রিয় থাকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
একই সঙ্গে দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে জাতীয় পার্টিকে একটি দায়িত্বশীল, গণমুখী ও কার্যকর রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
