ছবি: আল-জাজিরা
দীর্ঘ বৈরিতার ইতিহাস পেছনে ফেলে অবশেষে একই টেবিলে বসলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। Islamabad-এ অনুষ্ঠিত এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠককে ইতিমধ্যেই ‘ঐতিহাসিক’ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। প্রায় অর্ধশতাব্দী পর দুই দেশের শীর্ষ প্রতিনিধিদের সরাসরি এই সংলাপ নতুন কূটনৈতিক সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে।
শনিবার শুরু হওয়া এই বৈঠক টানা দুই ঘণ্টা রুদ্ধদ্বার কক্ষে চলে। পরে নৈশভোজের বিরতি দেওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে—আলোচনা ছিল ইতিবাচক ও গঠনমূলক। বিরতির পর আবারও বৈঠক শুরু হওয়ার কথা রয়েছে এবং প্রয়োজন হলে তা আগামীকাল পর্যন্ত গড়াতে পারে।
১৯৭৯-এর পর প্রথম সরাসরি সংলাপ- Iranian Revolution-এর পর থেকে দুই দেশের সম্পর্ক ছিল চরম উত্তেজনাপূর্ণ। সেই প্রেক্ষাপটে এই সরাসরি বৈঠককে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন ভাইস প্রেসিডেন্ট JD Vance। তার সঙ্গে ছিলেন বিশেষ দূত Steve Witkoff এবং Jared Kushner।
অন্যদিকে ইরানের প্রতিনিধিদলে ছিলেন পার্লামেন্ট স্পিকার Mohammad Bagher Ghalibaf এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী Abbas Araghchi। বৈঠকে পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের উপস্থিতিও বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
রুদ্ধদ্বার আলোচনা, কড়া গোপনীয়তা
পুরো বৈঠকটি কঠোর গোপনীয়তার মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়। কোনো গণমাধ্যমকে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হয়নি, এমনকি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিও এখনো সীমিত।
তবে কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, উভয় পক্ষই ‘সংযত ও ইতিবাচক’ মনোভাব নিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়েছে—যা ভবিষ্যৎ সম্পর্ক উন্নয়নের ইঙ্গিত দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞ পর্যায়েও চলছে দীর্ঘ সংলাপ
শীর্ষ পর্যায়ের আলোচনার পাশাপাশি ইসলামাবাদে দুই দেশের টেকনিক্যাল ও বিশেষজ্ঞ কমিটির সদস্যরাও আলাদা বৈঠকে বসেছেন।
ইরানের সংবাদমাধ্যম তাসনিমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের আলোচনা এখনো চলমান রয়েছে। আলোচনার জটিলতা ও গুরুত্ব বিবেচনায় সংলাপের সময়সীমা আরও বাড়তে পারে।
কী বার্তা দিচ্ছে এই বৈঠক? বিশ্ব রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই সরাসরি সংলাপ একটি সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে।
এখন নজর—এই আলোচনা কি কেবল কূটনৈতিক সৌজন্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি বাস্তব কোনো সমঝোতার পথ তৈরি করবে?
