হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে ঢাবি শিক্ষার্থীদের অবস্থান। ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর হৃদয়ে যেন আচমকা নেমে এলো এক অস্থিরতার ছায়া—চিকিৎসার জায়গা হয়ে উঠলো উত্তেজনার মঞ্চ, আর মানবতার সেবাঘর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে থমকে গেল জীবনের জরুরি ছন্দ।
বুধবার সন্ধ্যায় চিকিৎসক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে হাতাহাতির জেরে ঢামেকের জরুরি বিভাগের গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। বাইরে উত্তাল কণ্ঠে স্লোগান দিচ্ছেন একদল শিক্ষার্থী, আর ভেতরে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে ইন্টার্ন চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদের আওয়াজ—দুই প্রান্তে যেন দুই ভিন্ন ক্ষোভ, মাঝখানে নিঃশব্দ উদ্বেগ।
ঘটনার সূত্রপাত বিকেলে। এক শিক্ষার্থী চিকিৎসা নিতে এলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপত্র দেন। কিন্তু হাসপাতালের ভাণ্ডারে না থাকা ওষুধ বাইরে থেকে সংগ্রহের পরামর্শ দেওয়া হলে, সেখানেই শুরু হয় অসন্তোষের সূক্ষ্ম রেখা—যা অল্প সময়েই রূপ নেয় উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডায়।
কিছুক্ষণ পর ওই শিক্ষার্থী সহপাঠীদের নিয়ে ফিরে এসে চিকিৎসকদের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। অভিযোগ ওঠে—প্রেসক্রিপশনে লেখা ওষুধ বাইরে পাওয়া যাচ্ছে না। কথার উত্তাপ একপর্যায়ে ছড়িয়ে পড়ে আচরণের আগুনে, আর সেখান থেকেই শুরু হয় হাতাহাতি—মানবতার সেবায় নিয়োজিত হাতগুলোই জড়িয়ে পড়ে সংঘর্ষে।
পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে গেলে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা কর্মবিরতির ঘোষণা দেন এবং নিরাপত্তাজনিত শঙ্কায় জরুরি বিভাগের সেবা বন্ধ করে দেন—যেখানে প্রতিটি মুহূর্তই ছিল কারো জীবনের জন্য অমূল্য।
অন্যদিকে, শিক্ষার্থীদের দাবি—অমর একুশে হলের বোটানি বিভাগের শিক্ষার্থী সানিম চিকিৎসা নিতে গিয়ে চিকিৎসকদের হামলার শিকার হয়েছেন। সেই খবর ছড়িয়ে পড়তেই সহপাঠীরা হাসপাতালে এসে প্রতিবাদে ফেটে পড়েন। তাদের অভিযোগ, একাধিকবার হামলার শিকার হয়েছেন তারা এবং ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জরুরি বিভাগের গেটে মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশ। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সাইফুদ্দীন আহমেদও। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. ফারুক জানান, ওষুধ সংক্রান্ত বিরোধ থেকেই এই সংঘর্ষের সূত্রপাত, পরে অতিরিক্ত পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
চিকিৎসার আশ্রয়স্থল, জ্ঞানের আলোকবর্তিকা—দুটি মহৎ অঙ্গনের এই সংঘর্ষ যেন এক বেদনাদায়ক অধ্যায়। যেখানে ভুল বোঝাবুঝির আগুনে পুড়ে যায় সহমর্মিতা, আর অপেক্ষায় থাকে একটি শান্ত সমাধানের স্পর্শ।
