সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন। ফাইল ছবি: এএফপি
এপস্টেইন ফাইল ইস্যুতে মার্কিন কংগ্রেসের তদন্ত কমিটির কাছে সাক্ষ্য দিতে রাজি হয়েছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ও তাঁর স্ত্রী হিলারি ক্লিনটন। হিলারি যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী। ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তিনি রিপাবলিকান ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিপরীতে ডেমোক্রেট মনোনীত প্রার্থী ছিলেন।
ক্লিনটন দম্পতির এই সম্মতি এলো কংগ্রেসের হাউস ওভারসাইট কমিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগ মুহূর্তে। সাক্ষ্য দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি আদালত অবমাননার প্রস্তাব পাসের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। হাউস ওভারসাইট কমিটি হলো মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের তদন্ত কমিটি। এর কাজ হলো ফেডারেল সরকারের নীতি, কার্যকারিতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।
ক্লিনটন দম্পতি এর আগে বলেছিলেন, এপস্টাইন সম্পর্কে তাদের কাছে থাকা সীমিত তথ্য ইতোমধ্যে সরবরাহ করেছেন। এখন ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে এই আইনি তলব রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিব্রত করার একটি অপকৌশল।
গত মাসের শেষ দিকে রিপাবলিকানদের নেতৃত্বাধীন হাউস ওভারসাইট কমিটি ক্লিনটন দম্পতির বিরুদ্ধে ফৌজদারি আদালত অবমাননার প্রস্তাব অনুমোদন দেয়। এতে বেশ কয়েকজন ডেমোক্র্যাট সদস্যও সমর্থন দিয়েছিলেন। সোমবার সন্ধ্যায় বিল ক্লিনটনের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ অ্যাঞ্জেল উরেনিয়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ দেওয়া পোস্টে নিশ্চিত করেন, এই দম্পতি কমিটির সামনে হাজির হবেন।
হাউস ওভারসাইট কমিটিকে উদ্দেশ্য করে উরেনিয়া লেখেন, তারা যা জানেন তা আপনাদের জানিয়েছেন। কিন্তু আপনারা তাতে ভ্রুক্ষেপ করেননি। তবুও সাবেক প্রেসিডেন্ট এবং সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্যানেলের সামনে হাজির হবেন। তারা এমন একটি নজির স্থাপন করতে চান যা সবার জন্য প্রযোজ্য হবে।
ক্লিনটন দম্পতি কবে কংগ্রেসে সাক্ষ্য দেবেন তা এখনও স্পষ্ট নয়। কংগ্রেসীয় তদন্ত কমিটির কাছে সবশেষ কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের সাক্ষ্য দেওয়ার ঘটনা ঘটে ১৯৮৩ সালে। সাক্ষ্য দিয়েছিলেন জেরাল্ড ফোর্ড।
সম্প্রতি মার্কিন বিচার বিভাগ কয়েক লাখ এপস্টেইন নথি প্রকাশ করেছে। সেখানে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম উঠে এসেছে। এপস্টেইনের নির্যাতনের শিকার ভুক্তভোগীরা বিল ক্লিনটনের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের অভিযোগ আনেননি। ক্লিনটন নিজেও এপস্টেইনের যৌন অপরাধ সম্পর্কে কিছু জানার কথা অস্বীকার করে আসছেন।
কন্যা শিশুদের পাচার ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়ার পর জেফরি এপস্টেইন ২০১৯ সালে কারাগারে মারা যান। গ্রেপ্তারের আগে তাঁর সঙ্গে বিল ক্লিনটনের যোগাযোগ থাকার নথি প্রকাশ হয় গত ডিসেম্বরে। তবে ক্লিনটন দাবি করেন, দুই দশক আগেই তাদের মধ্যে যোগাযোগ বন্ধ হয়েছিল।
