সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের সর্বশেষ অবস্থা জানতে গতকাল বৃহস্পতিবারও দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে ভিড় করেন দলীয় নেতাকর্মীরা সমতল মাতৃভূমি
,
হে আল্লাহ, হে মাবুদ, তুমি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে সুস্থতা দান করুন। তাঁকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে দাও। তুমি তাঁকে মাফ করে দাও।’ গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে দাঁড়িয়ে এভাবেই দুই হাত তুলে প্রার্থনা করছিলেন বয়োবৃদ্ধ লুৎফর রহমান। তাঁর মতো অনেকেই খালেদা জিয়ার সুস্থতার জন্য হাসপাতালের সামনে রাস্তায় দাঁড়িয়ে দোয়া করেন।লুৎফর রহমান জানান, তাঁর বাসা রাজধানীর খিলগাঁওয়ের বালুর মাঠ এলাকায়। তিনি বাসে, রিকশায় ও হেঁটে এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে আসেন। তিনি বলেন, ‘তাঁর কাছে যেতে পারব না জেনেও এসেছি দোয়া করতে। হাসপাতালের সামনে এসেছি এটিই সান্ত্বনা।’
চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়াকে দেখতে বিভিন্ন জেলা থেকে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে গতকালও ভিড় করেন। তবে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ), বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা হাসপাতাল এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেন। হাসপাতালের সামনের এক পাশের সড়কে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালটির কাছের মাঠে সশস্ত্র বাহিনীর হেলিকপ্টার পরীক্ষামূলক অবতরণ-উড্ডয়ন করে। বেশ কয়েকবার মহড়া দিতেও দেখা যায়।
ভাটারা থানার ওসি রাকিবুল হাসান সমকালকে বলেন, এভারকেয়ার হাসপাতাল এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। উৎসুক জনতা যাতে হাসপাতালে ঢুকতে না পারে সে জন্য সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ভেতরে এসএসএফ এবং বাইরে পুলিশ ও বিজিবি নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছে।
সরেজমিন দেখা যায়, তিন স্তরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে– প্রধান ফটকের বাইরে, ভেতরে এবং হাসপাতালের অভ্যন্তরে। বিশেষ নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে এসএসএফ। সংবাদ সংগ্রহের জন্য গণমাধ্যমকর্মীরা হাসপাতালের সামনে অবস্থান করছেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিএনপির নেতাকর্মী ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। তাদের কেউ কেউ রাস্তায় দাঁড়িয়ে খালেদা জিয়ার সুস্থতার জন্য মোনাজাত করেন।
চট্টগ্রাম ২ নম্বর জালালাবাদ ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি এস এম মোহসীন গতকাল সকালে হাসপাতালের সামনে আসেন। তিনি বলেন, ‘হাসপাতালে ঢুকে আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়াকে দেখতে পারব না জানি। এরপরও এসেছি। তিনি যে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, তার সামনে এসে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে আছি, এটাও মনের সান্ত্বনা। তাঁর জন্য সবার কাছে দোয়া চাই।’
চোখে দেখতে না পেলেও প্রিয় নেত্রীর স্বাস্থ্যের খোঁজ শোনার জন্য ধামরাই থেকে এসেছেন বিএনপিকর্মী ইব্রাহীম আলী। তিনি বলেন, ‘চারদিকে নানা খবর ছড়িয়ে পড়ায় বাসায় থাকতে পারছিলাম না, তাই সকালে হাসপাতালের সামনে এলাম।’
