বৃহস্পতিবার, ১২ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৯শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

“এলজিইডির সিআইবিআরআর প্রকল্পে আলোচিত প্রকৌশলী কাজী আব্দুস ছামাদ দুদকের একাধিক মামলা, বিভাগীয় শাস্তি ও ব্যক্তিগত বিতর্ক—বিতর্কে নতুন মোড়

নিজস্ব প্রতিবেদক
ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬ ৬:৩৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

এলজিইডির (স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর) সিআইবিআরআর প্রকল্পের কনসালটেন্ট ও পিসি গার্ডার এক্সপার্ট প্রকৌশলী কাজী আব্দুস ছামাদকে ঘিরে আবারও নানা অভিযোগ সামনে এসেছে। দুর্নীতি, অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত জীবনের বিতর্ক—সব মিলিয়ে তিনি বর্তমানে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব দপ্তরে দাখিল করা লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদে নির্বাহী প্রকৌশলী থাকাকালে শুভলং বাজারে পানীয় জলের ডিপ টিউবওয়েল স্থাপনের কাজ না করেই বরাদ্দকৃত অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ২০২৪ সালের ৯ মার্চ ০৩/২৩ নম্বর মামলা দায়ের করে, যা বর্তমানে রাঙ্গামাটির সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে বিচারাধীন।
এছাড়া শুভলং কমিউনিটি ক্লিনিক ও পাকা সিঁড়ি নির্মাণ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগে একই দিনে ০৪/২৪ নম্বর আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়। পূর্ব এরাবনিষ্ট হারুন টিলা থেকে আহাদের বাড়ি পর্যন্ত সড়ক সংস্কার কাজেও অনিয়মের অভিযোগে ০৫/২৩ নম্বর মামলা রয়েছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনটি মামলাই বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন।

বিভাগীয় মামলায় শাস্তি প্রসঙ্গে- অভিযোগ রয়েছে, সিলেটে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয়ে কর্মরত থাকাকালে তিনি অধীনস্থ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং প্রশাসনিক নির্দেশ পালনে অনীহা দেখান। এমজিএসপি সিলেট অঞ্চলে উপপরিচালক থাকাকালে গাড়িচালকের চাকরির বইয়ে স্বাক্ষর না করা ও কর্মকর্তাদের এসিআর প্রক্রিয়ায় বাধা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

রাঙ্গামাটি তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর কার্যালয়ে কর্মরত অবস্থায় উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ ও অনুমোদন ছাড়া স্বারক ব্যবহার করার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা (নং ১২/২০২৩, স্বারক ৫১৫, তারিখ ১২ জুন ২০২৩) দায়ের হয়। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে বেতন স্কেলের নিম্ন ধাপে অবনমিত করার শাস্তি দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

গাড়ি মেরামত ও জ্বালানি বিল নিয়ে নানা প্রশ্নের
অভিযোগ রয়েছে, সিলেট বিভাগে নির্বাহী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় বিভিন্ন সরকারি গাড়ির যন্ত্রাংশ ক্রয় ও মেরামতের বিল এবং জ্বালানি খাতে অনিয়ম হয়েছে। একটি নির্দিষ্ট গাড়ির (ঢাকা মেট্রো-খ-১১-২৬২১) ব্যয়ের বিষয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্তের ফলাফল এখনো প্রকাশ পায়নি।

নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক–আরও অভিযোগ রয়েছে, প্রিটেস্ট কাজে পর্যাপ্ত অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও তিনি সিআইবিআরআর প্রকল্পে পিসি গার্ডার এক্সপার্ট পদে নিয়োগ পান। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম বা ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ উঠলেও এ বিষয়ে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও আলোচনা-সমালোচনা তুঙ্গে।
তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।তবে এসব বিষয় ব্যক্তিগত পরিসরের হওয়ায় সংশ্লিষ্টরা এ বিষয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

জামিনে আছেন কি না? দুদকের দায়ের করা মামলাগুলোতে তিনি জামিনে আছেন—এমন দাবি সংশ্লিষ্ট কিছু সূত্রের। তবে এ বিষয়ে আদালতের সর্বশেষ অবস্থান জানতে আনুষ্ঠানিক নথিপত্র যাচাই প্রয়োজন।
এ বিষয়ে প্রকৌশলী কাজী আব্দুস ছামাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, অভিযোগগুলো তদন্তাধীন এবং আদালতের চূড়ান্ত রায়ের ওপরই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে।

অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে তা শুধু ব্যক্তি নয়, সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের ভাবমূর্তির জন্যও বড় ধাক্কা হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এখন নজর আদালত ও তদন্ত সংস্থার পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।
আইন-আদালত সর্বশেষ