বৃহস্পতিবার, ১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১লা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

“ককটেল হামলায় তরুণ নিহত ছেলে হারানোর সঙ্গে ঋণ মেটানোর দুশ্চিন্তা মা-বাবার” অজ্ঞাতদের আসামি করে মামলা

স্টাফ রিপোর্টার
ডিসেম্বর ২৬, ২০২৫ ৩:২২ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সিয়াম মজুমদার

গ্রামের বাড়ি খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার দেয়াড়া দেবনগরে থাকার সময় ঋণের জালে আটকা পড়েছিলেন রিকশাচালক আলী আকবর মজুমদার। সাড়ে চার বছর আগে পাওনাদারদের ভয়ে অনেকটা পালিয়ে ভিটেমাটি ছেড়ে পরিবার নিয়ে ঢাকায় এসে আশ্রয় নেন তিনি। দুই ছেলে ও স্ত্রীকে নিয়ে শুরু হয় তার নতুন জীবন সংগ্রাম।

ছেলেদের পড়াশোনা বন্ধ করে কাজে দিতে বাধ্য হন আকবর। স্ত্রী সিজু বেগমও বাসাবাড়িতে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ নেন। একটু একটু করে শোধ করতে থাকেন ঋণের ভার। তবে এখনও তাদের মাথার ওপর ১০-১১ লাখ টাকা ঋণের দায়।

গত বুধবার সন্ধ্যার পর রাজধানীর মগবাজার ফ্লাইওভার থেকে ছোড়া ককটেলের বিস্ফোরণে এই দম্পতির বড় ছেলে সিয়াম মজুমদারের মৃত্যুর পর ঋণগ্রস্ত পরিবারটির সামনে এখন উপস্থিত হয়েছে আরও কঠিন সময়।

নিহতের বাবা রিকশাচালক আকবর মজুমদার গতকাল বৃহস্পতিবার সমকালকে বলেন, ছেলের লাশ নিয়ে গ্রামের বাড়ি যেতেও ভয় করছে। আত্মীয়স্বজন ও পুলিশ আশ্বস্ত করেছে, তারা আমার পরিবারের নিরাপত্তা দেবে। তবুও পাওনাদারদের ভয় পাচ্ছি। ঋণ ও সুদের জালে আটকা পড়ে গ্রাম ছেড়েছিলাম। এখন আবার ভয় নিয়ে গ্রামে যাচ্ছি। ঢাকায় এসে পরিবারের চার সদস্য মিলে কাজ করে দুই থেকে তিন লাখ টাকা শোধ করেছিলাম। সব শেষ হয়ে গেল।

তিনি আরও বলেন, ভাগ্যে এমন লেখা আছে জানলে গ্রাম ছাড়তাম না। ছেলের খুনের বিচার চাই। কীভাবে ঋণমুক্ত হব, সেই দুশ্চিন্তায় আছি। সুদ মওকুফ করার ব্যবস্থা করলেও উপকার হতো। সংসার খরচের একটি বড় অংশ ছেলের আয় থেকে আসত। প্যাডেলচালিত রিকশা চালিয়ে খুব বেশি আয় করতে পারছি না। এখন ছেলেকেও হারালাম।

ইস্কাটনের দুই হাজার গলিতে আকবর মজুমদারের ভাড়া বাসা। বড় ছেলে সিয়াম মজুমদার কার ডেকোরেশন কর্মী। ছোট ছেলে একই ধরনের দোকানে কাজ করেন। চারজনের রোজগারে চলত তাদের সংসার।

গতকাল সন্ধ্যায় সিয়ামের ছোট ভাই সেজান মজুমদার বলেন, কীভাবে আমাদের সংসার চলবে– এটা জানি না। বড় ভাই মাসে ১২ হাজার টাকা বেতন পেত। এখন ভাইয়ের লাশ নিয়ে গ্রামে যাচ্ছি।

এ ঘটনায় গতকাল হাতিরঝিল থানায় অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছেন সিয়ামের বাবা। তবে ঘটনায় জড়িত কাউকে এখনও শনাক্ত করা যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

হাতিরঝিল থানার ওসি গোলাম মর্তুজা বলেন, প্রাথমিক তথ্য হলো, মোটরসাইকেল থেকে ককটেল ছোড়া হয়েছে। জড়িতদের শনাক্ত করতে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা ও তদন্ত চলছে। সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে দেওয়া হয়েছে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।