বাগেরহাটের কচুয়ায় জমি বিরোধ, ব্ল্যাকমেইল না প্রতিশোধ—রহস্য ঘিরে চাঞ্চল্য; আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় নেওয়ার প্রস্তুতি ফাইল ছবি-
বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলায় ঘটে গেল ভয়াবহ ও লোমহর্ষক এক হামলার ঘটনা। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে এক যুবকের হাত-পা বিচ্ছিন্ন করে ফেলে দুর্বৃত্তরা। রোববার সকালে মঘিয়া ইউনিয়নের সম্মানকাঠি গ্রামের একটি বাগান থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে পুলিশ।
নৃশংস হামলার শিকার যুবকের নাম রহমতউল্লা শেখ (২৭)। তিনি উপজেলার চরসোনাকুর গ্রামের আব্দুল মতিন–এর ছেলে।
উদ্ধারের পর কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বারবার পানি চাইছিলেন রহমতউল্লা। হামলাকারীদের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি অভিযোগ করেন—একই গ্রামের ইসরাফিল শেখ, ইয়াসিন ও তাদের সহযোগী ইব্রাহিম ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে কুপিয়েছে।
চিকিৎসক জান্নাতুল ফেরদাউস জানান, রহমতউল্লাকে হাসপাতালে আনার সময় তার দুই হাত ও দুই পা মারাত্মক জখম ছিল। একটি হাত ও একটি পা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন এবং অন্য পাটিও প্রায় বিচ্ছিন্ন অবস্থায় ছিল। মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত থাকায় তাকে দ্রুত খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল–এ পাঠানো হয়।
খুলনায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় রহমতউল্লার বাবা দাবি করেন, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষরা তার ছেলের ওপর হামলা চালিয়েছে। তিনি বলেন, কুপিয়ে কবজি থেকে দুই হাত বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে এবং দুই পা প্রায় কেটে ফেলা হয়েছে। চিকিৎসকদের পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। তবে স্থানীয়দের একটি অংশ ভিন্ন ইঙ্গিত দিচ্ছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জানান, সম্প্রতি এলাকায় একটি ধর্ষণের ঘটনা নিয়ে উত্তেজনা ছিল এবং সেই ঘটনার ভিডিও দেখিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারকে ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ উঠেছিল রহমতউল্লার বিরুদ্ধে। এর জের ধরেই হামলা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন তারা।
এদিকে শফিকুল ইসলাম, কচুয়া থানার ওসি, বলেন—ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, রহমতউল্লার বিরুদ্ধে থানায় মাদক ও ধর্ষণসংক্রান্ত মামলাও রয়েছে।
নৃশংস এই হামলা এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে। জমি বিরোধ, প্রতিশোধ নাকি অন্য কোনো গোপন দ্বন্দ্ব—তদন্ত শেষ হলে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উন্মোচিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
