আজিজুর রহমান মুছাসাব্বির ফাইল ছবি
রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র কারওয়ান বাজার—যেখানে প্রতিদিন হাজারো মানুষের কোলাহল, সেখানে দীর্ঘদিন ধরেই নীরবে সক্রিয় ছিল চাঁদাবাজির একাধিক সিন্ডিকেট। সেই আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করেই স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আজিজুর রহমান ওরফে মুসাব্বিরকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
আজ শনিবার সকালে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিবির প্রধান ও ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম এসব তথ্য তুলে ধরেন।
তিনি জানান, কারওয়ান বাজার এলাকায় প্রকাশ্য ও গোপনে চাঁদা আদায়ের জন্য সক্রিয় রয়েছে অন্তত আট থেকে নয়টি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। চাঁদার অর্থ বণ্টন ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ থেকেই এই হত্যাকাণ্ডের ছক কষা হয়। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, বিদেশে পলাতক আন্ডারওয়ার্ল্ড সন্ত্রাসী দিলীপ ওরফে ‘বিনাশ’-এর নির্দেশেই মুসাব্বিরকে হত্যা করা হয়।
শফিকুল ইসলাম আরও বলেন, চাঁদাবাজদের কোনো স্থায়ী রাজনৈতিক পরিচয় নেই। কারওয়ান বাজারের মতো বড় কাঁচাবাজারে দখল ও প্রভাব ধরে রাখতে তারা সুযোগ বুঝে বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যানারের আশ্রয় নেয়।
গত ৭ জানুয়ারি রাত সাড়ে ৮টার দিকে পশ্চিম তেজতুরী পাড়ার হোটেল সুপার স্টারের পাশের গলিতে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয় স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকা মহানগর উত্তরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. আজিজুর রহমান মুসাব্বিরকে। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে তেজগাঁও থানায় অজ্ঞাতনামা ৪ থেকে ৫ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যতম প্রধান শুটার মো. রহিমকে শুক্রবার নরসিংদীর মাধবদী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে দুটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন এবং ১২ রাউন্ড গুলি।
এর আগে, গত ১১ জানুয়ারি মামলার আরও চার আসামি—জিন্নাত, আবদুল কাদির, মো. রিয়াজ ও মো. বিলালকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ নিয়ে এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত মোট পাঁচজন এখন পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।
সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ জানায়, হত্যার প্রায় ২৫ মিনিট আগে মোটরসাইকেলে করে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় প্রধান দুই সন্দেহভাজন। কারওয়ান বাজারের স্টার হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের পাশের গলির মুখে আগে থেকেই অপেক্ষায় ছিল তাদের এক সহযোগী। মোটরসাইকেলটি তার কাছে রেখে তারা গলির ভেতরের অন্ধকার জায়গায় ওত পেতে থাকে। হত্যাকাণ্ড নিশ্চিত হওয়ার পর মোটরসাইকেল নিয়ে অপেক্ষমাণ ব্যক্তি দ্রুত ফার্মগেটের দিকে পালিয়ে যায়।
ডিবির প্রধান আরও জানান, মুসাব্বির হত্যার পেছনের পুরো নেটওয়ার্ক ও প্রকৃত পরিকল্পনাকারীদের চিহ্নিত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি পলাতক আসামিদের ধরতে অভিযান জোরদার করা হয়েছে।
