কুমিল্লার জাঙ্গালীয়া বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) অফিসে ভয়াবহ অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। প্রিপেইড মিটার স্থাপনের পরও এক গ্রাহকের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয় লাখ টাকার কাছাকাছি ‘ভূতুড়ে বিল’। শুধু তাই নয়, বকেয়া দেখিয়ে বারবার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে তাকে আর্থিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করার অভিযোগে তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পাঠানো হয়েছে লিগ্যাল নোটিশ।
ভুক্তভোগী গ্রাহক কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার শ্রীমন্তপুর গ্রামের মৃত বাবুল হোসেনের ছেলে মোঃ আনোয়ার হোসেনের পক্ষে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোঃ রেজাউল কবির এই নোটিশ পাঠান।
এদিকে লিগ্যাল নোটিশ পাওয়া তিন কর্মকর্তা হলেন—
১. পারভেজ আহম্মেদ, নির্বাহী প্রকৌশলী, পিডিবি, জাঙ্গালীয়া, কুমিল্লা
২. আইয়ুব আলী, উপ-সহকারী প্রকৌশলী, পিডিবি, জাঙ্গালীয়া
৩. আনিছ, মিটার রিডার (শ্রীমন্তপুর এলাকা)
নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, আনোয়ার হোসেন দীর্ঘদিন ধরে তার পিতার আমল থেকে সচল বিদ্যুৎ মিটার (নং-৩১৬৯৪৬১২) ব্যবহার করে আসছিলেন। গত বছরের ৭ অক্টোবর বিদ্যুৎ অফিসের নির্দেশে তিনি বকেয়া ১০,২৮৫ টাকা পরিশোধ করে পুরোনো এনালগ মিটার জমা দেন এবং প্রিপেইড মিটার (নং-১২১০০৯৯৬৬৮০) স্থাপন করেন।
কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী প্রিপেইড মিটারে কোনো বকেয়া থাকার কথা না থাকলেও চলতি বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি হঠাৎ করেই তার নামে ৩৫,১৭৯ টাকার একটি এনালগ বকেয়া বিল দেখিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ লক করে দেওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট অফিসে গেলে উপ-সহকারী প্রকৌশলী আইয়ুব আলী তাকে বিল পরিশোধ করার নির্দেশ দেন।
পরবর্তীতে মিটার রিডার আনিছের সঙ্গে কথা বললে তিনি নোটিশ অনুযায়ী স্বীকার করেন—মিটারের ইউনিট জমিয়ে রেখে কম উল্লেখ করা হয়েছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, এই কাজটি ছিল সম্পূর্ণ বেআইনি ও গ্রাহককে হয়রানির শামিল।
পরিস্থিতির চাপে পড়ে আনোয়ার হোসেন গত মাসে কিস্তিতে মোট ৩৬,৪৬০ টাকা পরিশোধ করেন। কিন্তু তাতেও শেষ হয়নি হয়রানি। অভিযোগ রয়েছে, ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তার বিদ্যুৎ সংযোগ আবারও বিচ্ছিন্ন রাখা হয়।
ফলে পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে ফ্রিজে সংরক্ষিত প্রায় ৩২,১০০ টাকার নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য পচে নষ্ট হয়ে যায়। এতে ভুক্তভোগী পরিবারকে চরম আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি মানবেতর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে।
লিগ্যাল নোটিশে বলা হয়েছে, সরকারি দায়িত্বে থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির মাধ্যমে একজন গ্রাহককে অন্যায়ভাবে হয়রানি করেছেন।
নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়, নোটিশ প্রাপ্তির ৩০ দিনের মধ্যে আনোয়ার হোসেনের আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদান না করলে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইনে দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হবে।
এ ঘটনায় স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যেও ব্যাপক ক্ষোভ ও আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই বলছেন, “প্রিপেইড মিটার থাকলেও যদি গ্রাহকদের এমন ‘ভূতুড়ে বিলের’ শিকার হতে হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?
