প্রতীকী ছবি
*চায়ের আড্ডা থেকে রহস্যময় ডাকে মৃত্যু—মাথায় গুলি, শরীরে কোপের চিহ্ন; ঘটনাস্থল থেকে একজন আটক*
রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকা রোববার রাতে হঠাৎই রূপ নেয় রক্তাক্ত এক অপরাধস্থলে। আড্ডা আর চায়ের কাপে জমে থাকা রাতের স্বাভাবিকতা ভেঙে মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক—গুলির শব্দে কেঁপে ওঠে পুরো এলাকা। সেই গুলিতেই প্রাণ হারান মো. রাকিব (২৭) নামে এক তরুণ, যিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জন্য ভিডিও কনটেন্ট তৈরি করতেন।
রোববার (রাত প্রায় সোয়া ৯টা) দিকে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাতের আড্ডায় কয়েকজন বন্ধু শহীদ মিনারের পাশেই বসে গল্প করছিলেন। হঠাৎ করেই কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দ শোনা যায়। শব্দের উৎসের দিকে ছুটে গিয়ে দেখা যায়, এক যুবক রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে আছেন—তিনি রাকিব।
রাকিবকে হাসপাতালে নেওয়া জিএম ইশান জানান, আমরা শহীদ মিনারের পাশে আড্ডা দিচ্ছিলাম। হঠাৎ গুলির শব্দ শুনে সামনে এগিয়ে যাই। দেখি এক যুবক রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন। পরে তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যাই।
এদিকে নিহতের বন্ধু মো. রনি জানান, ঘটনার কিছুক্ষণ আগে রাকিব তার কয়েকজন মেয়ে বন্ধুর সঙ্গে পাশের একটি চায়ের দোকানে বসে চা খাচ্ছিলেন। এ সময় এক অচেনা যুবক তাকে আলাদা করে ডেকে নিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পরই গুলির শব্দ শোনা যায়।
রনি গণমাধ্যম কে বলেন, গুলির শব্দ শুনে শহীদ মিনারের ওপরে গিয়ে দেখি রাকিব রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। তার মাথায় গুলি লেগেছে, শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতও ছিল।
ঘটনার পরপরই আশপাশের লোকজন দৌড়ে পালানোর সময় সন্দেহভাজন একজনকে ধরে ফেলে এবং পরে তাকে শাহবাগ থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
নিহত রাকিব শেখ বোরহান উদ্দিন কলেজের ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি পুরান ঢাকার নিমতলি এলাকায় বসবাস করতেন। তার বাবা তরিকুল ইসলাম খোকন।
শাহবাগ থানার এসআই মিঠু ফকির জানান, রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক রাকিবকে মৃত ঘোষণা করেন। কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তবে পুলিশ ঘটনাটির প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত শুরু করেছে।
ঘটনার পর থেকেই শহীদ মিনার এলাকায় থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। রাতের সেই কয়েকটি গুলির শব্দ যেন এখনও কানে বাজছে প্রত্যক্ষদর্শীদের—একটি রহস্যময় ডাক, কয়েক মুহূর্তের ব্যবধান, আর তারপরই নিথর হয়ে পড়ে থাকা এক তরুণের জীবন।
