ছবি: ফোকাস বাংলা
রাজনীতির উত্তাল অধ্যায় যেন হঠাৎই বাস্তবের কঠিন মাটিতে আছড়ে পড়ল। আদালতের সিঁড়িতে এক মুহূর্তের হুড়োহুড়ি—আর তাতেই ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে গেলেন সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী। ক্ষমতার উচ্চতা থেকে এই হোঁচট যেন সময়ের নির্মম এক প্রতীক।
মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট Jewel Rana তার রিমান্ড ও জামিন—উভয় আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আদালতের এ আদেশের পর সিএমএম কোর্টের সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামানোর সময় আইনজীবী ও গণমাধ্যমকর্মীদের তীব্র ভিড়ে তৈরি হয় বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি।
হঠাৎ ধাক্কাধাক্কির মধ্যে ভারসাম্য হারিয়ে সিঁড়িতে পড়ে যান শিরীন শারমিন চৌধুরী। মুহূর্তেই যন্ত্রণায় চিৎকার ভেসে ওঠে আদালত প্রাঙ্গণে—যেন কঠোর বাস্তবতার মাঝে এক মানবিক আর্তনাদ। সঙ্গে থাকা নারী পুলিশ সদস্যরা দ্রুত তাকে তুলে নিয়ে নিরাপত্তা বলয়ে প্রিজন ভ্যানে পৌঁছে দেন।
এর আগে দুপুরে কড়া নিরাপত্তায় তাকে আদালতে হাজির করে দুই দিনের রিমান্ড আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। রাষ্ট্রপক্ষের পিপি অ্যাডভোকেট ওমর ফারুক ফারুকী দাবি করেন, “আন্দোলনের সময় সংঘটিত সহিংসতার নেপথ্য পরিকল্পনা উদঘাটনে তাকে রিমান্ডে নেওয়া জরুরি।
অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার মামুন বলেন, তিনি একজন পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির ব্যক্তি। ঘটনার দীর্ঘ সময় পর মামলা করা হয়েছে—মানবিক দিক বিবেচনায় তার জামিন পাওয়া উচিত।
শুনানি শেষে আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন—একটি সিদ্ধান্ত, যা রাজনৈতিক বিতর্কের আগুনকে আরও উসকে দিয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় আজিমপুর সরকারি কলোনিতে গুলিবর্ষণের ঘটনায় মো. আশরাফুল (ফাহিম) স্থায়ীভাবে দৃষ্টিশক্তি হারান। ওই ঘটনার সূত্র ধরে দায়ের করা মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-এর নির্দেশে এবং শিরীন শারমিন চৌধুরী সহ অন্যদের প্রত্যক্ষ মদতে হামলাটি চালানো হয়।
মামলার ৩ নম্বর আসামি হিসেবে গত রাতে ধানমন্ডির একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে তার সম্পৃক্ততা ছিল এবং সহিংস ঘটনার পেছনে তার পরিকল্পনার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
সময়ের নির্মম ঘূর্ণিপাকে— ক্ষমতা, অভিযোগ আর মানবিক দুর্বলতার এই গল্প যেন একসঙ্গে লিখে যাচ্ছে ইতিহাসের নতুন এক অধ্যায়।
