শুক্রবার, ২৮শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৩ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

খুন বাড়ছে, জনমনে উদ্বেগ সাত মাসে ২ হাজার ৭৬ মামলা, ঢাকায় তিন মাসে ৭০—অবৈধ অস্ত্র ও আধিপত্যের লড়াইও বড় কারণ

নিজস্ব প্রতিবেদক
আগস্ট ২৮, ২০২৬ ১২:২৪ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সারাদেশে খুনের ঘটনায় উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। পুলিশ সদরদপ্তরের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চলতি বছরের জুলাই মাসে সারাদেশে খুনের মামলা হয়েছে ২৯৮টি। জুনে এ সংখ্যা ছিল ৩২৬ এবং মে মাসে ৩১০টি। অর্থাৎ, গত তিন মাসে খুনের নথিভুক্ত মামলা হয়েছে মোট ৯৩৪টি। গড়ে প্রতি মাসে ৩১১টি করে খুনের মামলা হয়েছে।

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সাত মাসে খুনের ঘটনায় মামলা হয়েছে ২ হাজার ৭৬টি। এর মধ্যে জানুয়ারিতে ২৮৭, ফেব্রুয়ারিতে ২৫০, মার্চে ৩১৭ এবং এপ্রিলে ২৮৮টি মামলা হয়েছে। সাত মাসে গড়ে প্রতি মাসে খুনের মামলা দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৯৬টি।

সাম্প্রতিক সময়েও দেশের বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক হত্যাকাণ্ড জনমনে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বাগেরহাট, ফরিদপুর, পাবনার ঈশ্বরদী, জামালপুর ও ঝিনাইদহে পাঁচজন নিহত হওয়ার খবরের পরদিন রংপুর নগরের কামালকাছনা এলাকার মাছুয়াপাড়ায় একটি বাড়ির দ্বিতীয়তলা থেকে একই পরিবারের চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশের ভাষ্য, ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তানকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় স্বজনদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, দেশে খুনের পেছনে একক কোনো কারণ নেই। টার্গেট কিলিং, সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের দ্বন্দ্ব, রাজনৈতিক কোন্দল, এলাকাভিত্তিক চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের তৎপরতা, মাদককেন্দ্রিক বিরোধ, কিশোর গ্যাং, গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্ব, জমি নিয়ে বিরোধ, নারী ও শিশু নির্যাতনের পর হত্যা এবং পারিবারিক-সামাজিক কলহ—বিভিন্ন কারণে ঘটছে হত্যাকাণ্ড।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কিছু এলাকায় হত্যাকাণ্ডে আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার বাড়ার বিষয়টিও উদ্বেগের। এতে সামনে আসছে অবৈধ অস্ত্রের বিস্তারের আশঙ্কা। তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি বছরের সাত মাসে সারাদেশে ১২৩টি গুলির ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৫৯ জন।

এদিকে এখন পর্যন্ত পুলিশের লুণ্ঠিত এক হাজার ৩১১টি অস্ত্র উদ্ধার হয়নি। এর মধ্যে চায়নিজ রাইফেল রয়েছে ১০৯টি এবং এসএমজি ৩০টি। উদ্ধার হয়নি দুই লাখ ৫৭ হাজার ১২৫টি গুলিও। এর বাইরে বিভিন্ন অপরাধী চক্রের হাতে অবৈধ আধুনিক অস্ত্র থাকার তথ্যও সামনে এসেছে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সামগ্রিক চিত্র বুঝতে খুনের মামলার পরিসংখ্যান গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত হয়। সেই হিসাবে চলতি বছরের সাত মাসে দুই হাজারের বেশি খুনের মামলা নথিভুক্ত হওয়াকে সতর্কসংকেত হিসেবে দেখছেন অনেকে। প্রত্যাশিত মাত্রায় পরিস্থিতির উন্নতি এখনও দৃশ্যমান নয় বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পুলিশ সদরদপ্তরের অতিরিক্ত আইজি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, খুনের পরিসংখ্যান মাসে প্রায় ৩০০টির কাছাকাছি। অনেক সময় চাইলেও খুন ঠেকানো কঠিন। কারণ হত্যাকাণ্ড অনেক ক্ষেত্রেই অনাকাঙ্ক্ষিত ও তাৎক্ষণিকভাবে ঘটে। ব্যক্তিগত শত্রুতা ও ক্রোধ থেকেও হত্যার ঘটনা ঘটছে। আবার কোনো কোনো মাসে খুন বাড়ে, কোনো মাসে কমে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখনও পুরোপুরি প্রত্যাশিত গতিতে ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। সংযুক্তি, বদলি, চাকরি হারানো, মামলায় আসামি হওয়া এবং সামাজিক মাধ্যমে ট্যাগিংয়ের মতো নানা আতঙ্কের প্রভাব রয়েছে বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগ করতে গিয়েও বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে। এর প্রভাব মাঠপর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে পড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রাজনৈতিক বিরোধেও বাড়ছে রক্তপাত

খুনোখুনির পেছনে রাজনৈতিক কোন্দলও অন্যতম কারণ হিসেবে সামনে এসেছে। অনেক এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও হত্যাকাণ্ড ঘটছে। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত রাজনৈতিক বিরোধকে কেন্দ্র করে ছোট-বড় ৪০০টি সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রাণ গেছে ৭৭ জনের। তাদের মধ্যে দুর্বৃত্তদের হামলা ও গুলিতে নিহত হয়েছেন ৪০ জন।

গত ১৭ আগস্ট সচিবালয়ে এক সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, বিগত ছয় মাস বা ১৮০ দিনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে। তবে পরিস্থিতি নিয়ে সন্তুষ্টির বিষয়টি দেশের জনগণই মূল্যায়ন করবে। জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী পরিস্থিতি আরও সুসংহত করতে কিছুটা সময় প্রয়োজন বলেও জানান তিনি।

ঢাকায় তিন মাসে ৭০ খুন

পুলিশ সদরদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশের মহানগরগুলোর মধ্যে জুলাইয়ে ঢাকায় সবচেয়ে বেশি ৩১টি খুনের মামলা হয়েছে। জুনে ঢাকায় খুনের ঘটনা ছিল ২৩টি এবং মে মাসে ১৬টি। অর্থাৎ, তিন মাসে রাজধানীতে খুনের মামলা হয়েছে ৭০টি। পরিসংখ্যান বলছে, তিন মাসের ব্যবধানে ঢাকায় হত্যাকাণ্ডের প্রবণতা ঊর্ধ্বমুখী।

জুলাইয়ে চট্টগ্রাম মহানগরে চারটি, খুলনায় তিনটি, রাজশাহীতে একটি, সিলেটে পাঁচটি এবং গাজীপুরে সাতটি খুনের মামলা হয়েছে। এ মাসে বরিশাল ও রংপুর মহানগরে খুনের ঘটনা নথিভুক্ত হয়নি।

রেঞ্জভিত্তিক হিসাবে জুলাইয়ে ঢাকা রেঞ্জে সবচেয়ে বেশি ৬৬টি খুনের ঘটনা ঘটেছে। এরপর চট্টগ্রাম রেঞ্জে ৫৪টি, খুলনায় ২৯, ময়মনসিংহে ২৭, রাজশাহীতে ২৪, রংপুরে ১৮, সিলেটে ১৫ এবং বরিশাল রেঞ্জে ১৪টি ঘটনা ঘটেছে।

জুনে ঢাকা রেঞ্জে ৭৪, চট্টগ্রামে ৬৭, রাজশাহীতে ৩১, খুলনায় ২৮, ময়মনসিংহ ও সিলেটে ২২টি করে এবং বরিশালে ১৫টি খুনের ঘটনা নথিভুক্ত হয়। মে মাসে ঢাকা রেঞ্জে ৭২, চট্টগ্রামে ৭১, খুলনা ও রাজশাহীতে ২৯টি করে, রংপুরে ২১, বরিশালে ২০, সিলেটে ১৪ এবং রেলওয়ে রেঞ্জে একটি খুনের ঘটনা ছিল।

গত তিন মাসে খুলনা রেঞ্জে মোট খুনের ঘটনা ৮৫টি। খুলনা মহানগরে এ সময়ে খুনের ঘটনা নয়টি। চট্টগ্রাম রেঞ্জে তিন মাসে খুনের মামলা হয়েছে ১৯২টি এবং চট্টগ্রাম মহানগরে ১৪টি। একই সময়ে ঢাকা রেঞ্জে খুনের মামলা হয়েছে ২১২টি।

আগের বছরের তুলনায় চিত্রও উদ্বেগের

পুলিশ সদরদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাইয়ে খুনের ঘটনায় মোট মামলা ছিল ৩৬২টি। এর মধ্যে আগের খুনের ঘটনায় ৯০টি মামলা থাকায় প্রকৃত খুনের ঘটনা ছিল ২৭২টি। জুনে মোট মামলা ৩৪৪টি হলেও আগের অপরাধের মামলা ছিল ৯৫টি; ফলে প্রকৃত খুনের মামলা ২৪৯টি। মে মাসে মোট ৩৪১টি মামলার মধ্যে আগের মামলা ছিল ৮০টি; প্রকৃত খুনের মামলা দাঁড়ায় ২৬১টি। অর্থাৎ, ওই তিন মাসে প্রকৃত খুনের মামলা ছিল ৭৮২টি, গড়ে প্রতি মাসে ২৬০টি।

২০২৪ সালের জুলাইয়ে খুনের মামলা ছিল ৩৩৪টি, জুনে ২৬৮ এবং মে মাসে ২৫৯টি। তিন মাসে মোট খুনের ঘটনা ছিল ৮৬১টি; গড়ে ২৮৭টি।

২০২৪ সালের জানুয়ারিতে খুনের মামলা ছিল ২৩১টি, ফেব্রুয়ারিতে ২৪০, মার্চে ২৩৯, এপ্রিলে ২৯৬, মে মাসে ২৫৯, জুনে ২৬৮, জুলাইয়ে ৩৩৪, আগস্টে ৬২৬, সেপ্টেম্বরে ২৮৩, অক্টোবরে ২৪৯, নভেম্বরে ২১১ এবং ডিসেম্বরে ২০৪টি। আগস্টের ৬২৬টি মামলার মধ্যে ১৫৮টি ছিল আগের অপরাধের মামলা।

অন্যদিকে ২০২৩ সালে জানুয়ারিতে খুনের ঘটনা ছিল ২১৪টি, ফেব্রুয়ারিতে ২২২, মার্চে ২৬৮, এপ্রিলে ২৯৬, মে মাসে ২৪৬, জুনে ২৭২, জুলাইয়ে ২৯৬, আগস্টে ২৫৩, সেপ্টেম্বরে ২৩৮, অক্টোবরে ২৫৮, নভেম্বরে ২২৭ এবং ডিসেম্বরে ২২৩টি। ওই বছর মোট খুনের মামলা হয় ৩ হাজার ২৩টি। গড়ে প্রতি মাসে খুনের মামলা ছিল ২৫১টি। ২০২৩ সালের মে থেকে জুলাই পর্যন্ত তিন মাসে খুনের ঘটনা ছিল ৮১৪টি; গড়ে ২৭১টি।

মাঠপর্যায়ে উদ্বেগ, নির্দেশনা সদরদপ্তরের

সাম্প্রতিক সময়ে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে পুলিশ সদরদপ্তরে একাধিক বৈঠক হয়েছে। এসব বৈঠকে খুন, নারী ও শিশু নির্যাতনসহ বিভিন্ন অপরাধ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

গত ৬ আগস্ট রাজধানীর সবুজবাগ থানাধীন বাগানবাড়ী কালভার্ট এলাকার একটি গরুর খামারসংলগ্ন সেতুর নিচে অজ্ঞাতপরিচয় এক নারীর খণ্ডিত মাথা ও পলিথিনে মোড়ানো দুই হাত পড়ে থাকার খবর পায় পুলিশ। পরে ঘটনাস্থল থেকে সেগুলো উদ্ধার করা হয়। তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ওই নারীর পরিচয় শনাক্ত করা হয়। তাঁর নাম ছুরাইয়া আক্তার ওরফে ফালানী (১৯)। পরে তাঁর বাবা-মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে খণ্ডিত মাথার ছবি ও দুই হাতে থাকা ট্যাটু দেখে তারা মরদেহ শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের ভাষ্য, ২০২৪ সালের আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কয়েকজন শীর্ষ সন্ত্রাসী ও চিহ্নিত অপরাধী কারাগার থেকে জামিনে বের হয়েছেন। কেউ বিদেশ থেকে দেশে ফিরেছেন, কেউ আবার দেশের বাইরে চলে গেছেন। তাদের কেউ কেউ এলাকায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন। পুরোনো বিরোধ মেটাতে প্রতিশোধের পথেও হাঁটছেন কেউ কেউ।

গত ২৮ এপ্রিল নিউমার্কেট এলাকায় শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমনের ভগ্নিপতি খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। তাঁর স্বজনরা এ হত্যার জন্য আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী হেলালকে দায়ী করেন। তবে হেলাল পাল্টা অভিযোগ করেন, এ ঘটনার পেছনে ইমনের সহযোগীরাই জড়িত। গত ১০ নভেম্বর ঢাকার আদালতপাড়ার কাছে আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী তারিক সাইফ মামুনকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

খুলনায় একের পর এক হত্যাকাণ্ড

২০ আগস্ট খুলনার বটিয়াঘাটায় নদী থেকে অজ্ঞাতনামা এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। একই দিন রাতে দিঘলিয়া উপজেলায় বিদ্যালয় ছুটির প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর স্কুলের বাথরুম থেকে হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় এক ছাত্রীকে উদ্ধার করা হয়।

১৯ আগস্ট শহরের লবণচরায় জোড়া খুনের ঘটনা ঘটে। আশিবিঘা এলাকায় মাত্র দুই ঘণ্টার ব্যবধানে গুলিতে দুই তরুণ নিহত হন। ১৮ আগস্ট রায়েরমহল এলাকায় শিশু অপহরণের চেষ্টার অভিযোগে গণপিটুনিতে রাজু (২৬) নামে এক যুবক নিহত হন। ১৫ আগস্ট জয় ঢালী (২৭) নামে এক যুবককে গলা কেটে ও কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ১১ আগস্ট ফখরুল শেখ (৩২) নামে এক যুবককে ইটভাটায় গুলি করে হত্যা করা হয়।

পুলিশের অতিরিক্ত আইজি খোন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, খুলনা, চট্টগ্রামসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে খুনের ঘটনা তুলনামূলক বেশি ঘটছে। এসব ঘটনায় কোথাও ভাড়াটে খুনি, চরমপন্থি ও সুন্দরবনকেন্দ্রিক জলদস্যুদের সম্পৃক্ততা রয়েছে। তাঁর ভাষ্য, আগে অপরাধীদের মধ্যে ‘বন্দুকযুদ্ধের’ ভয় ছিল এবং তারা এলাকায় আসত না। এখন পুলিশ প্রচলিত আইনে তাদের বিচারের মুখোমুখি করার নীতিতে বিশ্বাসী।

তবে কিছু এলাকায় রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেও হত্যাকাণ্ড ঘটছে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে তাঁর দাবি, সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের অধিকাংশের রহস্য উদ্ঘাটন এবং আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপরাধ পর্যালোচনা সভায় খুনের মতো গুরুতর অপরাধ কীভাবে কমিয়ে আনা যায়, সে বিষয়ে নিয়মিত প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।

সব মিলিয়ে পরিসংখ্যান ও মাঠপর্যায়ের ঘটনাপ্রবাহ বলছে, হত্যাকাণ্ডের কারণ বহুমাত্রিক। রাজনৈতিক ও সামাজিক বিরোধ, মাদক, আধিপত্যের লড়াই, সংঘবদ্ধ অপরাধ, অবৈধ অস্ত্র এবং পারিবারিক কলহ—সব মিলিয়ে খুনের ঝুঁকি কমাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সামাজিক প্রতিরোধও জরুরি হয়ে উঠেছে। দুই হাজারের বেশি মামলা পেরিয়ে যাওয়া পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।