শুক্রবার, ২০শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৬ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

‘গণপূর্তে ‘সুপার সিন্ডিকেট, শত কোটি টাকার লুটপাটে অভিযুক্ত সমীরণ মিস্ত্রী—ক্ষমতার ছত্রছায়ায় দুর্নীতির সাম্রাজ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক
মার্চ ১৯, ২০২৬ ৪:৫৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

টেন্ডার কারসাজি, মানিলন্ডারিং, গোপন সম্পদ ও বিতর্কিত পরকীয়া সম্পর্ক—এক কর্মকর্তাকে ঘিরে বিস্ফোরক অভিযোগে তোলপাড়গোটা গণপূর্ত অধিদপ্তর।

দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা গণপূর্ত অধিদপ্তর—সেই প্রতিষ্ঠানই যেন এখন দুর্নীতির আঁতুড়ঘরে পরিণত হয়েছে! আর এই অন্ধকার জগতের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে এক নাম—নির্বাহী প্রকৌশলী সমীরণ মিস্ত্রী।

অভিযোগের পাহাড় জমেছে তার বিরুদ্ধে—ক্ষমতার অপব্যবহার, টেন্ডার বাণিজ্য, শত কোটি টাকার আত্মসাৎ, বিদেশে অর্থ পাচার, এমনকি অফিসের ভেতর অনৈতিক পরকীয়া সম্পর্কের অভিযোগেও তোলপাড় পুরো দপ্তর।

মিস্ত্রী সিন্ডিকেট—দুর্নীতির গোপন নেটওয়ার্ক- দুর্নীতি দমন কমিশনে দায়ের হওয়া অভিযোগে উঠে এসেছে এক ভয়ংকর চিত্র। সমীরণ মিস্ত্রী,তার ভাই উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মিঠুন মিস্ত্রী এবং সিফাত ওয়াসী মিলে গড়ে তুলেছেন একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেটের হাত ধরে সরকারি প্রকল্পে প্রভাব খাটিয়ে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ। অথচ আশ্চর্যের বিষয়—এত কিছুর পরও তারা বহাল তবিয়তে থাকায় মূল আলোচনার কেন্দ্রে!

অবৈধ সম্পদের পাহাড়—দেশ-বিদেশে ব্যাপক বিস্তার-
অভিযোগ বলছে—ঢাকায় একাধিক প্লট, ফ্ল্যাট, বিলাসবহুল গাড়ি, গ্রামের বাড়িতে রাজকীয় বাংলো—সব মিলিয়ে যেন সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন এই কর্মকর্তা। শুধু দেশেই নয়—ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বাড়ি, কলকাতায় ব্যবসায় বিনিয়োগ—সবই নাকি দুর্নীতির টাকায়! অভিযোগ রয়েছে, কালো টাকা পাচার করে বিদেশে সম্পদ গড়েছেন তারা।

আয়কর ফাঁকি ও গোপন ব্যাংক হিসাব- সরকারি আয়ের সঙ্গে যার কোনো মিল নেই—এমন বিপুল সম্পদ গোপন করে আয়কর ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। বিভিন্ন ব্যাংকে কোটি টাকার এফডিআর—যার উৎস অজানা!টেন্ডার বাণিজ্যে একচ্ছত্র আধিপত্য- গণপূর্তের টেন্ডার মানেই যেন ‘মিস্ত্রী সিন্ডিকেট’-এর নিয়ন্ত্রণ! অভিযোগ অনুযায়ী—পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেওয়া, আত্মীয়স্বজনের নামে ঠিকাদারি প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ,সবই চলেছে দীর্ঘদিন ধরে,প্রকাশ্যেই!

অস্বাভাবিক সম্পর্ক” ও অফিসে অস্থিরতা- সাম্প্রতিক দপ্তরের ভেতরে সবচেয়ে বেশি আলোচনা—সমীরণ মিস্ত্রী ও সিফাত ওয়াসীর ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে। অভিযোগ অনুযায়ী,এই সম্পর্ক কর্মপরিবেশকে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এ সম্পর্ক ঘিরে ভারত সফরসহ একাধিক ঘটনা এখন অফিসের,ওপেন সিক্রেট!

জাতীয় সংসদে “টাকাখেকো ইঞ্জিন”? জাতীয় সংসদ ভবন এলাকার ই/এম বিভাগ–৭-এ প্রায় ৭ বছর দায়িত্ব পালন করেন সমীরণ মিস্ত্রী। এই সময়েই তিনি হয়ে ওঠেন টাকাখেকো ইঞ্জিন”—এমন বিস্ফোরক অভিযোগ রয়েছে।

আমব্রেলা প্রজেক্ট”—লুটপাটের মহোৎসব! সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ—তথাকথিত “আমব্রেলা প্রজেক্ট”।
৩০-৪০টি দরপত্রের মাধ্যমে শত কোটি টাকা আত্মসাৎ!
ভয়াবহ দিক হলো— পরিকল্পনা, অনুমোদন, বাস্তবায়ন
সবই ছিল এক ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণে!

ক্ষমতার ছায়ায় ৭ বছরের রাজত্ব- অভিযোগ অনুযায়ী, প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় একই বিভাগে বছরের পর বছর পোস্টিং ধরে রেখেছিলেন তিনি। রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে নিজের অবস্থান শক্ত করেছেন বলেও দাবি উঠেছে। অভিযোগের পরও রহস্যজনক নীরবতা- এত অভিযোগ, এত আলোচনা—তবুও কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেই! প্রশ্ন উঠছে— গণপূর্তে কি দুর্নীতিবাজদের জন্য বিশেষ সুরক্ষা বলয় তৈরি হয়েছে?

যোগাযোগে ব্যর্থ, নীরব অভিযুক্তরা- অভিযোগের বিষয়ে জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সমীরণ মিস্ত্রী, মিঠুন মিস্ত্রী ও সিফাত ওয়াসীর কোনো সাড়া মেলেনি। বরং হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানোর পর প্রতিবেদককে ব্লক করে দেওয়া হয়!

দুদকের তদন্ত দাবি জোরালো- দুর্নীতি দমন কমিশন-এ দায়ের হওয়া আবেদনে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ, মানিলন্ডারিং, আয়কর ফাঁকি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
এখন প্রশ্ন একটাই— এই ‘সুপার সিন্ডিকেট’ ভাঙবে কবে? আইনের মুখোমুখি হবেন কবে অভিযুক্তরা?

নীরবতা, নাকি স্বীকারোক্তি?
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া মেলেনি। বরং হোয়াটসঅ্যাপে অভিযোগপত্র পাঠানোর পর প্রতিবেদকের নম্বরই ব্লক করে দেওয়া হয়েছে—যা নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
এই নীরবতা কি কৌশলগত? নাকি অভিযোগ এড়ানোর ব্যর্থ চেষ্টা? সচেতন মহলের মতে— যখন গুরুতর অভিযোগের জবাব না দিয়ে পালানোর পথ বেছে নেওয়া হয়, যখন প্রশ্নের মুখে দাঁড়ানোর সাহস থাকে না, তখন সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়, আরও জোরালো হয়ে ওঠে অভিযোগের ভিত্তি।
প্রশ্ন উঠছে— যদি অভিযোগ মিথ্যা হয়, তবে জবাব দিতে ভয় কেন? কেন এড়িয়ে যাওয়া, কেন এই রহস্যময় নীরবতা? অনেকেই বলছেন, এই আচরণ শুধু দায় এড়ানোর নয়—বরং এটি জনমনে সন্দেহকে আরও পাকাপোক্ত করে তুলছে। এখন সবার চোখ একই জায়গায়— সত্যিই কি এই নীরবতার আড়ালে লুকিয়ে আছে বড় কোনো দুর্নীতির গল্প?

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।
বিশেষ খবর সর্বশেষ