রাজনীতির মৃদু ঢেউ যেন হঠাৎই উত্তাল হতে চলেছে। রাজধানীর গুলশানের নিভৃত আলো-ছায়ায়,শনিবার রাত সাড়ে ৮টায় বসছে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম—জাতীয় স্থায়ী কমিটির বহুল প্রতীক্ষিত বৈঠক। দলীয় চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এই বৈঠক ঘিরে তৈরি হয়েছে এক ধরনের রহস্যঘেরা আগ্রহ,যেন অদৃশ্য কোনো পরিবর্তনের বার্তা ভাসছে বাতাসে।
সরকার গঠনের পর এটাই বিএনপির স্থায়ী কমিটির প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক—যা দলটির ভবিষ্যৎ পথচলার দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ মোড় নিতে পারে। এর আগে সর্বশেষ বৈঠক হয়েছিল জাতীয় নির্বাচনের ঠিক এক মাস আগে,গত ৯ জানুয়ারি। দীর্ঘ বিরতির পর আবারও একই টেবিলে বসছেন শীর্ষ নেতারা—যেন জমে থাকা অজস্র প্রশ্ন আর অপ্রকাশিত সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হওয়ার এক নাটকীয় আয়োজন।
দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড.খন্দকার মোশাররফ হোসেনের কণ্ঠেও শোনা গেল সেই অনিশ্চয়তার সুর। তিনি বলেন,বেশ কিছুদিন ধরেই বৈঠক হয়নি। হঠাৎ করেই চেয়ারম্যান ডেকেছেন। তবে আগেভাগে এজেন্ডা জানানো হয় না।তার কথায় যেন লুকিয়ে আছে অজানা সিদ্ধান্তের আভাস,যা হয়তো এই রাতেই প্রকাশ পাবে।
ভিতরের খবর বলছে,বৈঠকের টেবিলে উঠবে দেশের চলমান রাজনৈতিক বাস্তবতা,সংবিধান সংস্কার পরিষদের প্রস্তাব,আলোচিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ’বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের ছায়া,হামের প্রাদুর্ভাব এবং সংরক্ষিত নারী আসনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলো। পাশাপাশি দলীয় সাংগঠনিক কাঠামোতেও আসতে পারে নতুন কোনো ছোঁয়া।
গুলশানের সেই নির্জন রাজনৈতিক কার্যালয়—যেখানে আলো জ্বলবে,দরজা বন্ধ হবে,আর ভেতরে চলবে সিদ্ধান্তের ঘূর্ণিঝড়—সেখান থেকেই হয়তো বেরিয়ে আসবে আগামী দিনের নতুন দিকনির্দেশনা। রাত যত গভীর হবে,ততই বাড়বে কৌতূহল—বিএনপির এই বৈঠক কি শুধু আনুষ্ঠানিকতা,নাকি বড় কোনো রাজনৈতিক বার্তার সূচনা?
