বার লাইসেন্স ছাড়াই বিদেশি মদ মজুত ও বিক্রির অভিযোগ, গ্রেপ্তার ম্যানেজার; মামলায় পলাতকসহ আসামি একাধিক। ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশানের একটি রেস্টহাউজে অভিযান চালিয়ে ২২৩ বোতল বিদেশি মদ ও ২০৯ বোতল-ক্যান বিয়ার জব্দ করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। সংস্থাটির দাবি, কোনো বার লাইসেন্স ছাড়াই ‘সেভেনটি এইট রেস্টহাউজ সোসাইটি’ নামের প্রতিষ্ঠানটিতে বিদেশি মদ মজুত ও বিক্রি করা হচ্ছিল। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজার মো. আতাউর রহমান শামীমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট আরেক ব্যক্তি মো. ওমর জামিলের বিরুদ্ধে পলাতক আসামি হিসেবে মামলা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টা ৩০ মিনিটে গুলশান-২-এর ১০৪ নম্বর সড়কের ২৪ নম্বর বাসায় অবস্থিত রেস্টহাউজটিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। ডিএনসির তথ্য অনুযায়ী, অভিযানে ১৭৭ লিটার বিদেশি মদ ও ৬৭ লিটার বিয়ার জব্দ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে জব্দ করা মদ ও বিয়ারের পরিমাণ ২৪৪ লিটার।
‘জার্মান ক্লাব’ পরিচয়ে চলছিল কার্যক্রম
ডিএনসি জানায়, ‘জার্মান ক্লাব’ নামে পরিচিত একটি প্রতিষ্ঠানে অবৈধভাবে বিদেশি মদ মজুত এবং পাইকারি ও খুচরা বিক্রির তথ্য পাওয়া যায়। এ তথ্যের ভিত্তিতে অনুসন্ধান চালিয়ে সংস্থাটি জানতে পারে, ওই নামে পরিচিত প্রতিষ্ঠানটি মূলত ‘সেভেনটি এইট রেস্টহাউজ সোসাইটি’। তবে সেখানে ‘জার্মান ক্লাব’ নামে কোনো বৈধ প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে ডিএনসি।
অভিযান চলাকালে রেস্টহাউজটির ম্যানেজার আতাউর রহমান শামীমকে আটক করা হয়। পরে অবৈধভাবে বিক্রির উদ্দেশ্যে মদ মজুত ও সংরক্ষণের অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ডিএনসির ভাষ্য অনুযায়ী, জব্দ করা মদ ও বিয়ারের বৈধতার পক্ষে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে পারেননি তিনি।
টিকিট বিক্রি করে ডিজে পার্টি, মাদক সরবরাহের অভিযোগ
ডিএনসির প্রাথমিক অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, প্রতিষ্ঠানটিতে টিকিট বিক্রির মাধ্যমে ডিজে পার্টির আয়োজন করা হতো। এসব অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের কাছে অবৈধভাবে বিদেশি মদ, বিয়ারসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক সরবরাহ করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। এ কার্যক্রমের সঙ্গে আর কারা জড়িত, তা শনাক্ত করতে অনুসন্ধান চালাচ্ছে সংস্থাটি।
এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মো. ওমর জামিল নামে আরেক ব্যক্তির সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে ডিএনসি। তবে অভিযানের সময় তিনি সেখানে উপস্থিত না থাকায় তার বিরুদ্ধে পলাতক আসামি হিসেবে মামলা করা হয়েছে।
ডিএনসির একাধিক ইউনিটের যৌথ অভিযান
ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের অতিরিক্ত পরিচালক জাহিদ হোসেন মোল্লার নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। এতে ডিএনসির প্রধান কার্যালয়, ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয় এবং ঢাকা মেট্রো উত্তর ও দক্ষিণ কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার আতাউর রহমান শামীম, পলাতক ওমর জামিল এবং অজ্ঞাতনামা অন্যদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে গুলশান থানায় মামলা করা হয়েছে। জব্দ করা মদ-বিয়ার ও রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য সংগৃহীত নমুনা ডিএনসির হেফাজতে রয়েছে।
ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত এবং প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।
