ফাইল ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রাম বন্দরে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ডাক দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার ঘোষিত এই কর্মসূচি বুধবার সকাল ৮টায় শুরু হবে। এর আগে ঘোষিত ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতি শেষ না হতেই নতুন করে এই অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ঘোষণা দেয় বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ।
পরিষদের এই কর্মসূচিতে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে চট্টগ্রাম শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)। মঙ্গলবার বিকেলে এক জরুরি সভায় সিদ্ধান্ত নিয়ে স্কপ আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মবিরতির প্রতি সংহতি প্রকাশ করে।
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারা দেওয়ার উদ্যোগের বিরোধিতা করে গত কয়েক দিন ধরে ধারাবাহিক আন্দোলন চালিয়ে আসছেন শ্রমিক-কর্মচারীরা। আন্দোলনের অংশ হিসেবেই অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।
স্কপের জরুরি সভাটি অনুষ্ঠিত হয় যুগ্ম সমন্বয়ক এস কে খোদা তোতনের সভাপতিত্বে এবং ইফতেখার কামাল খানের সঞ্চালনায়। সভায় উপস্থিত ছিলেন তপন দত্ত, কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার, কাজী আনোয়ারুল হক হুনি, এমরান হোসেন, হেলাল উদ্দিন কবির, নুরুল আবসার তৌহিদ, জাহেদ উদ্দিন শাহিন, ফজলুল কবির মিন্টুসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। সভা থেকে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের কর্মসূচি সফল করতে চট্টগ্রামের সর্বস্তরের শ্রমিক ও সচেতন নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
এর আগে মঙ্গলবার সকাল ১১টায় ইসহাক ডিপো টোল প্লাজা চত্বরে স্কপের উদ্যোগে এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেন রাজনীতিবিদ ও সিপিবির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলম।
সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন শ্রম সংস্কার কমিশনের সদস্য ও টিইউসি চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সভাপতি তপন দত্ত, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার, বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ইব্রাহিম হোসেন খোকন ও হুমায়ুন কবির, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল বাতেন প্রমুখ।
বক্তারা অভিযোগ করেন, বন্দর কর্তৃপক্ষ গণবদলির মাধ্যমে শ্রমিক-কর্মচারীদের ন্যায্য আন্দোলন দমন করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তারা বলেন, বদলি করে আন্দোলন দমন করা যাবে না। অবিলম্বে শ্রমিক নেতাদের বদলি আদেশ প্রত্যাহার এবং এনসিটি ইজারা প্রক্রিয়া বাতিলের দাবি জানান তারা।
সমাবেশ থেকে বন্দরের কথিত দুর্নীতি ও কমিশন বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে বন্দর চেয়ারম্যান ও বিডা চেয়ারম্যানকে চাকরি থেকে প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে বন্দর ব্যবস্থাপনায় ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে নৌ পরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার (অব.) শাখাওয়াত হোসেনের পদত্যাগ দাবি করেন বক্তারা।
বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক হুমায়ুন কবির বলেন, গত সাত মাস ধরে ধারাবাহিক আন্দোলনের মাধ্যমে এনসিটি ইজারা না দেওয়ার যৌক্তিকতা তুলে ধরা হলেও অন্তর্বর্তী সরকার ও বন্দর কর্তৃপক্ষ তা আমলে নেয়নি। ফলে শ্রমিক-কর্মচারীরা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
পরিষদের আরেক সমন্বয়ক ইব্রাহিম খোকন বলেন, দমন-পীড়নের অংশ হিসেবে বদলিকৃত শ্রমিকদের আইডি ডিঅ্যাক্টিভেট করে দেওয়া হয়েছে। অবিলম্বে গণবদলি বন্ধ, ডিঅ্যাক্টিভেট করা সব আইডি পুনরায় চালু এবং এনসিটি ইজারা প্রক্রিয়া বাতিলের দাবি জানান তিনি।
