মঙ্গলবার, ২০শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

জব্দ ব্যাংক হিসাব থেকে ১০০ কোটি টাকা উত্তোলনের অভিযোগ, প্রশ্নের মুখে ‘ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং’ এমডি মাসুদ আলম

নিজস্ব প্রতিবেদক
অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ৯:৪১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

দুদক-বিএফআইইউর নির্দেশনা উপেক্ষার অভিযোগ • ৩০০ কোটি টাকার প্রকল্পে ঘুষ ও অনিয়মের দাবি • তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে অপেক্ষা। ফাইল ফটো

জব্দ ব্যাংক হিসাব থেকে প্রায় ১০০ কোটি টাকা উত্তোলনের অভিযোগ, সরকারি প্রকল্পে অনিয়ম ও ঘুষের দাবি, বিপুল সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন—সব মিলিয়ে নতুন করে আলোচনায় ‘ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেড’-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মাসুদ আলম। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) নির্দেশনা অমান্য করে তাঁর প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব থেকে বিপুল অর্থ সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ সামনে আসার পর ব্যাংকিং খাত ও প্রশাসনিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি প্রকল্পের অর্থ, ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ থাকার পরও লেনদেনের সুযোগ, অর্থ স্থানান্তরে ব্যাংক কর্মকর্তাদের সম্ভাব্য ভূমিকা এবং সরকারি প্রকল্প বণ্টনে প্রভাবশালী মহলের সংশ্লিষ্টতার দাবি। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন ও পূর্ণাঙ্গ সত্যতা, অর্থ উত্তোলনের সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায় এখনো তদন্তের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হওয়া প্রয়োজন।

গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর ‘দৈনিক সমতল মাতৃভূমি’র অনলাইন পোর্টালে এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণের তথ্য পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদকের দাবি। পরবর্তী সময়ে একাধিক অনলাইন পোর্টাল থেকে মাসুদ আলমের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে প্রকাশিত খবর সরিয়ে ফেলার অভিযোগও উঠেছে। কেন প্রতিবেদনগুলো সরানো হয়েছে, সে প্রশ্নের নিরপেক্ষ ব্যাখ্যা এখনো সামনে আসেনি।

দুই দফায় ৪৮ কোটি টাকা, এরপর ১০০ কোটি উত্তোলনের অভিযোগ

সূত্রের দাবি, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং’ প্রকল্পের আওতায় মাসুদ আলমের প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে দুই দফায় মোট ৪৮ কোটি টাকা জমা হয়েছিল। প্রতিটি দফায় ২৪ কোটি টাকা করে বিল পরিশোধ করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।

সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের প্রেক্ষাপটে দুদক ও বিএফআইইউ মাসুদ আলম, তাঁর স্ত্রী এবং পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। কিন্তু ওই নির্দেশনার পরও ৩০ জুন ও ৩০ সেপ্টেম্বরের লেনদেনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগে উত্তোলিত অর্থের পরিমাণ প্রায় ১০০ কোটি টাকা উল্লেখ করা হলেও, কোন কোন হিসাব থেকে কত টাকা, কী তারিখে এবং কী পদ্ধতিতে উত্তোলন করা হয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি। দুই দফায় ৪৮ কোটি টাকা জমার তথ্যের সঙ্গে প্রায় ১০০ কোটি টাকা উত্তোলনের দাবির সম্পর্কও ব্যাংক নথি ও তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।

অভিযোগ রয়েছে, উত্তোলিত অর্থের একটি বড় অংশ সাবেক ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল এবং কারাগারে থাকা সাবেক সচিব মেজবাহ উদ্দিনের কাছে স্থানান্তর করা হয়েছে। তবে অর্থের গন্তব্য, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং লেনদেনের বৈধতা সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে তদন্তের ফল প্রয়োজন।

ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ থাকলে টাকা বের হলো কীভাবে?

এই অভিযোগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—কোনো ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ রাখার নির্দেশ কার্যকর থাকলে সেই হিসাব থেকে বিপুল অর্থ উত্তোলনের সুযোগ কীভাবে তৈরি হলো?

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ব্যাংক কর্মকর্তাদের একটি অংশের সহযোগিতা ছাড়া এমন লেনদেন সম্ভব ছিল না। তবে কোন ব্যাংকের কোন কর্মকর্তা নির্দেশ অমান্য করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কী ধরনের প্রমাণ রয়েছে এবং অর্থ উত্তোলনের সময় হিসাব অবরুদ্ধ রাখার নির্দেশ কার্যকর ছিল কি না—এসব বিষয় এখনো যাচাইসাপেক্ষ।

তদন্ত সংশ্লিষ্টদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ব্যাংকগুলোর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। হিসাবের বিবরণী, লেনদেনের অনুমোদন, অর্থ স্থানান্তরের নথি এবং দুদক-বিএফআইইউর নির্দেশনা বাস্তবায়নের রেকর্ড পরীক্ষা করে ঘটনার প্রকৃত চিত্র বের করার চেষ্টা চলছে।

সত্যতা পাওয়া গেলে অর্থ উত্তোলন ও স্থানান্তরের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা রয়েছে।

৩০০ কোটি টাকার প্রকল্পে ঘুষের অভিযোগ

মাসুদ আলমের প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ৩০০ কোটি টাকার একটি সরকারি প্রকল্প বাগিয়ে নিতে ঘুষ দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার তৎকালীন এপিএস মোয়াজ্জেম হোসেনকে প্রায় ১০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছিল। প্রকল্প পরিচালক মো. আব্দুল হামিদ খানের বিরুদ্ধেও অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

এ অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সরকারি প্রকল্পের দরপত্র, প্রতিষ্ঠান নির্বাচনের প্রক্রিয়া এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের মান নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠবে। তবে ঘুষের অভিযোগের পক্ষে কী ধরনের নথি, আর্থিক লেনদেন বা সাক্ষ্য রয়েছে, তা প্রকাশ্যে নিশ্চিত করা হয়নি। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্যও এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।

আইটি খাতের সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, প্রকল্পের কাজ দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের কারিগরি সক্ষমতা, প্রশিক্ষণের মান এবং বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা যথাযথভাবে যাচাই করা হয়নি। এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে প্রকল্পের দরপত্র, মূল্যায়ন প্রতিবেদন, চুক্তিপত্র ও বাস্তবায়ন-সংক্রান্ত নিরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ।

রাজনৈতিক পরিচয় ও একাধিক মামলার প্রসঙ্গ

মাসুদ আলম একসময় ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছে। গত জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার আন্দোলন ঘিরে তাঁর বিরুদ্ধে উসকানি, হত্যা ও সরকারি সম্পদ ধ্বংসের অভিযোগে প্রায় ৭০টি মামলা রয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে মামলার সংখ্যা, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ, মামলাগুলোর বর্তমান অবস্থা এবং আদালতের কোনো সিদ্ধান্ত রয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট নথি দিয়ে যাচাই করা প্রয়োজন। মামলা থাকা মানেই অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া নয়।

এতগুলো অভিযোগের মধ্যেও তাঁর প্রতিষ্ঠান সরকারি প্রকল্পের কাজ চালিয়ে গেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কীভাবে প্রতিষ্ঠানটির যোগ্যতা যাচাই করেছে এবং কোনো নিষেধাজ্ঞা বা অযোগ্যতার শর্ত প্রযোজ্য ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা জরুরি।

‘প্রমিস গ্রুপ’ ও পুরোনো ব্যবসা নিয়ে অভিযোগ

ব্যবসায়িকভাবে মাসুদ আলম ‘প্রমিস গ্রুপ’-এর কর্ণধার হিসেবে পরিচিত। এর আগে ‘নগদহাট বাংলাদেশ লিমিটেড’ নামে এমএলএম ব্যবসার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে তা আত্মসাতের অভিযোগও তাঁর বিরুদ্ধে উঠেছিল।

পরবর্তী সময়ে ‘প্রমিস মার্ট’, ‘প্রমিস অ্যাসেট’, ‘প্রমিস টেক’সহ প্রায় ১৫টি কোম্পানি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি ব্যবসায়িক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার দাবি করা হয়েছে।

তবে এসব প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত মালিকানা, আর্থিক লেনদেন, ব্যবসায়িক কার্যক্রম এবং কোনো অভিযোগে আইনগত সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না, তা যাচাই ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। প্রতিষ্ঠানগুলোর আয়-ব্যয়, সম্পদ ও দায়ের বিবরণ তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

হলফনামার সম্পদ বনাম প্রকৃত সম্পদ

২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সময় মাসুদ আলমের দাখিল করা হলফনামায় নিট সম্পদের পরিমাণ ৯ কোটি ৯৫ লাখ ৩১ হাজার টাকা এবং বার্ষিক আয় ২১ লাখ টাকা দেখানো হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

অন্যদিকে, দুদকের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী তাঁর প্রকৃত সম্পদ ঘোষিত পরিমাণের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি হতে পারে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তবে এই পার্থক্যের সুনির্দিষ্ট হিসাব, সম্পদের উৎস এবং কোনো সম্পদ গোপন করা হয়েছে কি না, তা এখনো প্রমাণসাপেক্ষ।

দুদক তাঁর ও তাঁর স্ত্রীর বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা এবং দেশের ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে সম্পদের তথ্য তলব করেছে বলে সূত্রের দাবি। এসব পদক্ষেপের সরকারি নথি ও বর্তমান অবস্থা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

দপ্তরের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন, প্রশিক্ষণের মান নিয়েও অভিযোগ

সরেজমিনে প্রতিষ্ঠানের দাপ্তরিক ফোন নম্বর বন্ধ এবং কার্যক্রম স্থবির থাকার তথ্য পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। আইটি খাতের সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটির আগের প্রকল্পগুলোতেও ভুয়া বিল-ভাউচার, নিম্নমানের প্রশিক্ষণ, অপ্রয়োজনীয় ব্যয় ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ছিল।

যেসব প্রকল্পের মাধ্যমে প্রশিক্ষণার্থী ও তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নের কথা, সেগুলোর অর্থ ব্যয় এবং বাস্তব ফলাফল যাচাই করা জরুরি। প্রশিক্ষণার্থীর সংখ্যা, উপস্থিতির রেকর্ড, প্রশিক্ষণ উপকরণ, সরঞ্জাম সরবরাহ এবং প্রকল্পের নিরীক্ষা প্রতিবেদন পরীক্ষা করলে অভিযোগগুলোর সত্যতা নিরূপণ করা সম্ভব হতে পারে।

তবে প্রতিষ্ঠানের ফোন বন্ধ থাকা বা কার্যক্রম স্থবির থাকার তথ্য একাই অনিয়ম কিংবা অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ নয়।

প্রকাশিত প্রতিবেদন সরানো হলো কেন?

গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর ‘দৈনিক সমতল মাতৃভূমি’র অনলাইন পোর্টালে মাসুদ আলমের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল বলে প্রতিবেদকের দাবি। এরপর একাধিক পোর্টাল থেকে তাঁর সংশ্লিষ্টতা নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন সরিয়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে।

প্রতিবেদন সরানোর কারণ জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, কোথাও অভিযুক্ত ব্যক্তি কারও ভাই, কোথাও আত্মীয়। তবে সংবাদ প্রকাশ বা অপসারণের ক্ষেত্রে এমন সম্পর্কের ভূমিকা ছিল কি না, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।

অভিযোগের সত্যতা যাচাই, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য নেওয়া এবং প্রয়োজন হলে প্রতিবেদন সংশোধন করা সাংবাদিকতার স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। কিন্তু আত্মীয়তা বা ব্যক্তিগত সম্পর্কের কারণে কোনো অভিযোগভিত্তিক সংবাদ সরানো হয়ে থাকলে তা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও জবাবদিহির প্রশ্ন তৈরি করবে।

দুদকের অবস্থান ও তদন্তের অগ্রগতি কোথায়?

মাসুদ আলমের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের মধ্যে রয়েছে—জব্দ ব্যাংক হিসাব থেকে অর্থ উত্তোলন, সরকারি প্রকল্পে অনিয়ম, ঘুষের লেনদেন, সম্পদের তথ্য গোপন এবং ব্যাংক কর্মকর্তাদের সম্ভাব্য যোগসাজশ। এসব অভিযোগের প্রতিটির তদন্তের অগ্রগতি, প্রাপ্ত নথি, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং গৃহীত আইনি পদক্ষেপ সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য ও হালনাগাদ তথ্য প্রয়োজন।

প্রতিবেদনে সিআর মামলা নং-৪৯৯/২০২৫ এবং দণ্ডবিধির ১৪৩, ১৪৭, ১৪৮, ৩২৬, ৩০৭, ১১৪ ও ১০৯ ধারাসহ বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলার উল্লেখ রয়েছে। তবে মামলার এজাহার, বাদী, আসামিদের পরিচয়, অভিযোগের সঙ্গে মাসুদ আলমের সম্পর্ক এবং মামলার বর্তমান অবস্থা যাচাই করা জরুরি। উল্লিখিত ধারাগুলো ও মামলার বিবরণ থেকে এককভাবে তাঁর বিরুদ্ধে অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ প্রমাণিত হয় না।

দুদক ও বিএফআইইউর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য, ব্যাংকগুলোর জবাব এবং সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের নথি পাওয়া গেলে অভিযোগের প্রকৃত ব্যাপ্তি ও তদন্তের অগ্রগতি আরও স্পষ্ট হবে।

পরবর্তী প্রতিবেদনে যেসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হবে

১. কোন ব্যাংকের কোন হিসাব থেকে কত টাকা উত্তোলন করা হয়েছে এবং সেই সময় হিসাব অবরুদ্ধ রাখার নির্দেশ কার্যকর ছিল কি না?

২. অর্থ উত্তোলনের অনুমোদন কারা দিয়েছেন এবং ব্যাংক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কোনো তদন্ত বা বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না?

৩. ৩০০ কোটি টাকার প্রকল্পে প্রতিষ্ঠান নির্বাচন, দরপত্র ও বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া কতটা স্বচ্ছ ছিল?

৪. প্রায় ১০ কোটি টাকা ঘুষ দেওয়ার অভিযোগের পক্ষে কোনো আর্থিক নথি, সাক্ষ্য বা তদন্ত প্রতিবেদন রয়েছে কি না?

৫. মাসুদ আলম, তাঁর স্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সম্পদ অনুসন্ধান এবং বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞার বর্তমান অবস্থা কী?

৬. গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদনের পর অভিযোগের বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল এবং অন্যান্য পোর্টাল থেকে সংবাদ সরানোর কারণ কী?

দুদকের অবস্থান, তদন্তের অগ্রগতি এবং মাসুদ আলমের ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য সংগ্রহ করে পরবর্তী প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে। অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে সরকারি নথি, ব্যাংকিং তথ্য, তদন্তের ফলাফল এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্যই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।