জাবি শিক্ষার্থী অরূপ রতন কনিষ্ক
নিঃশব্দ, ফাঁকা আবাসিক হল—আর সেই নীরবতার মাঝেই লুকিয়ে ছিল এক মর্মান্তিক রহস্য। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়-এর শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক হল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত লাশ, যা ঘিরে তৈরি হয়েছে শোক, আতঙ্ক ও নানা প্রশ্ন।
বুধবার দুপুরে হলের ৪১৩ নম্বর কক্ষ থেকে অরূপ রতন কনিষ্ক (প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ, ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষ) নামের ওই শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা আগে।
ঈদের ছুটিতে রুমমেটরা বাড়িতে থাকায় একাই কক্ষে অবস্থান করছিলেন কনিষ্ক। দুপুরের দিকে পাশের কক্ষের এক শিক্ষার্থী দরজায় নক করেও কোনো সাড়া না পেয়ে সন্দেহ করেন। পরে আরেকজনকে ডেকে এনে একসঙ্গে চেষ্টা করেও ভেতর থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া না পেয়ে তারা জানালার গ্লাস ভেঙে তাকাতেই চোখে পড়ে শিউরে ওঠার মতো দৃশ্য—ঝুলন্ত অবস্থায় নিথর দেহ।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান হল প্রশাসন। হল প্রভোস্ট নজরুল ইসলাম জানান, আনুমানিক ২টা ১০ মিনিটে কক্ষে গিয়ে তিনি নিজেও শিক্ষার্থীকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।
এ বিষয়ে আশুলিয়া থানা-এর উপ-পরিদর্শক শেখর চন্দ্র মল্লিক বলেন, “প্রাথমিকভাবে আমরা এটিকে আত্মহত্যা বলে সন্দেহ করছি। তবে ময়নাতদন্ত ছাড়া নিশ্চিত কিছু বলা যাচ্ছে না।”
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও ঘটনাটিকে গুরুত্ব সহকারে দেখছে। প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম রাশিদুল আলম জানিয়েছেন, পুলিশের উপস্থিতিতে সব আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত শুরু হয়েছে।
একটি স্বপ্ন, একটি জীবন—নিঃশব্দে থেমে গেল। তবে এই মৃত্যুর পেছনে লুকিয়ে থাকা কারণ এখনও অজানা, যা এখন ঘুরপাক খাচ্ছে সহপাঠী ও প্রশাসনের মনে…
