প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন থেকে সব মিলিয়ে ৭ হাজার ৩০০ জন শহীদ পরিবার এবং আহত জুলাইযোদ্ধা ১১৬ কোটি ২১ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা পেয়েছেন।
বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর পূর্বাচলের বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবেশন সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়।
আর্থিক সহায়তা কার্যক্রম নিয়ে ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, এ পর্যন্ত ফাউন্ডেশন ১১৯ কোটি ৯৮ লাখ টাকা তহবিল সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছে। তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে ইতোমধ্যে ১১৬ কোটি ২১ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। এই সহায়তার আওতায় ৮২৯টি জুলাই শহীদ পরিবার পেয়েছে ৪১ কোটি ২৭ লাখ টাকা এবং ছয় হাজার ৪৭১ জন আহত জুলাইযোদ্ধা পেয়েছেন ৭৪ কোটি ২১ লাখ টাকা। এখনও ৭ হাজার ৭৬৯ জন আহত জুলাইযোদ্ধা আর্থিক সহায়তার অপেক্ষায় রয়েছেন। তাদের জন্য প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত তহবিলের পরিমাণ প্রায় ২৩৮ কোটি টাকা। এই লক্ষ্য পূরণে জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
শহীদ পরিবার ও আহতদের টেকসই পুনর্বাসনের বিষয়ে ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) কামাল আকবর বলেন, শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, বরং সম্মানজনক ও টেকসই পুনর্বাসনই আহত জুলাইযোদ্ধাদের দীর্ঘমেয়াদি মুক্তির পথ। এ লক্ষ্য সামনে রেখে এ পর্যন্ত ৭ হাজার ৮২ জন আহত জুলাইযোদ্ধা পুনর্বাসনের জন্য ফাউন্ডেশনে আবেদন করেছেন। আবেদনকারীদের আগ্রহ বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রায় ২৫ শতাংশ দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ গ্রহণে আগ্রহী, ২০ শতাংশ চাকরিতে যুক্ত হতে আগ্রহী এবং ৫৪ শতাংশ স্বনির্ভর কর্মসংস্থানের মাধ্যমে জীবিকা গড়ে তুলতে আগ্রহী।
পুনর্বাসনের অগ্রগতি ও বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে তিনি জানান, এ পর্যন্ত ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে ৮২ জন আহত জুলাইযোদ্ধার টেকসই পুনর্বাসন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এই পুনর্বাসন কার্যক্রমের আওতায় তাদের জন্য স্বনির্ভর কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা সহায়তা, পেশাভিত্তিক পুনঃসংযুক্তি এবং ব্যক্তিগত চাহিদা অনুযায়ী সহায়ক সরঞ্জাম প্রদান নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রধান নির্বাহী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস সংরক্ষণে এই পর্যন্ত ৮০৪ জন জুলাই শহীদের ঘটনা, ছবি, পারিবারিক তথ্য ও বক্তব্য সংরক্ষণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ৩০০টির বেশি শহীদ ও ৪০টির বেশি আহত যোদ্ধার ভিডিও ডকুমেন্টারি করা হয়েছে। অন্যদিকে, আন্দোলনকালীন দুর্লভ ভিডিও ফুটেজ এবং সেই সময়কার সব প্রিন্ট মিডিয়া রিপোর্ট ও কাটিং সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ফাউন্ডেশনের জেনারেল ম্যানেজার সোহেল মিয়া, গণসংযোগ ও মিডিয়াপ্রধান জাহিদ হোসাইন, ভেরিফিকেশন প্রধান আমানুল্লাহ সাকিব, আইটি প্রধান সাকিব হাসান এবং কল সেন্টার প্রধান মাহফুজ।
