ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান
লেবাননের আকাশে যুদ্ধবিমানের গর্জন থামেনি এখনও—আর সেই গর্জনের প্রতিধ্বনি পৌঁছে গেছে তেহরানের হৃদয়ে। লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলাকে যুদ্ধবিরতি চুক্তির ‘চরম লঙ্ঘন’ বলে কঠোর ভাষায় নিন্দা জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। সতর্কবার্তায় তার কণ্ঠে ছিল স্পষ্ট হুঁশিয়ারি—তেহরানের হাত এখনও ট্রিগারের ওপরই রয়েছে।
বৃহস্পতিবার সামাজিকমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক আবেগঘন ও তীক্ষ্ণ বার্তায় তিনি বলেন, লেবাননের ওপর ইসরায়েলের হামলা শুধু একটি সামরিক পদক্ষেপ নয়—এটি এক বিপজ্জনক ইঙ্গিত, যা প্রমাণ করে কোনো চুক্তির প্রতিই দায়বদ্ধ নয় তেল আবিব। শান্তির আলোচনার কথা উঠলেও, এই আগ্রাসনের মাঝে তা অর্থহীন হয়ে পড়বে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ-বাকের গালিবাফ আরও কড়া ভাষায় সতর্ক করে বলেন,
এই লঙ্ঘনের মূল্য দিতে হবে—এবং সেই জবাব হবে কঠিন, নির্মম। তার ভাষায়, লেবানন এই যুদ্ধবিরতির অবিচ্ছেদ্য অংশ—এখানে পিছু হটার কোনো সুযোগ নেই।
অন্যদিকে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় তারা লেবাননে শতাধিক বিমান হামলা চালিয়েছে, যার লক্ষ্য ছিল হিজবুল্লাহর সামরিক অবকাঠামো ও অস্ত্রভাণ্ডার। এই অভিযানকে সমর্থন দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই লড়াই চলবে—যেখানেই সুযোগ, সেখানেই আঘাত।
কিন্তু এই শক্তির সংঘর্ষে সবচেয়ে বড় মূল্য দিচ্ছে সাধারণ মানুষ। বৈরুতসহ লেবাননের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোতে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছে অসংখ্য স্বপ্ন। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে অন্তত ২০৩ জনে, আহত হাজার ছাড়িয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এই হামলাকে ‘নির্মম হত্যাযজ্ঞ’ আখ্যা দিয়ে বলেন, হিজবুল্লাহকে লক্ষ্যবস্তু করার নামে নিরীহ মানুষের ওপর বর্বরতা চালানো হয়েছে—এটি অমানবিক।
এই শোকাবহ বাস্তবতায় লেবানন সরকার দেশজুড়ে জাতীয় শোক ঘোষণা করেছে। বৈরুতের আকাশে ধোঁয়ার কুয়াশা, মাটিতে ছড়িয়ে থাকা ধ্বংসস্তূপ—আর মানুষের চোখে আতঙ্ক, বেদনা আর অপেক্ষা—কবে থামবে এই আগুন? মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তপ্ত অধ্যায়ে যেন এক অদ্ভুত দ্বৈততা—যেখানে ভালোবাসার ভাষা হারিয়ে গেছে বারুদের গন্ধে, আর শান্তির প্রতিশ্রুতি ডুবে যাচ্ছে যুদ্ধের শব্দে।
সূত্র: বিবিসি
