২৪ ঘণ্টায় আরও ৪ জনের প্রাণহানি, হাসপাতালে ভর্তি ২ হাজার ১৬৭। অক্টোবরে মৃত্যু ৬২, বাড়ছে উদ্বেগ। ছবি সংগৃহীত
দেশে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা ক্রমেই বাড়ছে। এডিস মশাবাহিত এ জ্বরে আক্রান্ত হয়ে চলতি বছর হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়েছে। একই সঙ্গে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যাও। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট প্রাণহানির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩০৭ জনে। একই সময়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২ হাজার ১৬৭ জন।
সোমবার (১২ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের ডেঙ্গু-সংক্রান্ত ড্যাশবোর্ড থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মোট ১ লাখ ১ হাজার ৪৪২ জন। তাঁদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৯৫ হাজার ৩৩১ জন। অন্যদিকে, মৃত্যুর পরিসংখ্যানে নারী ও পুরুষের ব্যবধান খুব বেশি নয়। মোট ৩০৭ জন মৃতের মধ্যে নারী ৫১ দশমিক ৩ শতাংশ এবং পুরুষ ৪৮ দশমিক ৭ শতাংশ।
সেপ্টেম্বরে ভয়াবহ প্রাণহানি, অক্টোবরে মৃত্যু ৬২
মাসভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বছরের শুরুতে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা তুলনামূলক কম থাকলেও জুনের পর থেকে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে মারা যান। মার্চ ও এপ্রিলে কোনো মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়নি। মে মাসে একজন এবং জুনে ১৩ জনের মৃত্যু হয়।
এরপর জুলাইয়ে ৩৬ জন এবং আগস্টে ৪৩ জনের প্রাণহানি ঘটে। তবে সেপ্টেম্বরে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। ওই মাসে ডেঙ্গুতে মারা যান ১৪৮ জন। চলতি অক্টোবরের প্রথম ১২ দিনে প্রাণ হারিয়েছেন আরও ৬২ জন। এর মধ্যে গত ৬ অক্টোবর এক দিনে সর্বোচ্চ ১০ জনের মৃত্যু হয়।
অক্টোবরে হাসপাতালে ভর্তি ২১ হাজারের বেশি
ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যাও উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। চলতি অক্টোবরের এ পর্যন্ত ২১ হাজার ৮২২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর আগের মাস সেপ্টেম্বরে এ সংখ্যা ছিল ৪৩ হাজার ৭৭৪ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মাসভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জানুয়ারিতে ১ হাজার ৮১ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৪০৯, মার্চে ৩৫৩, এপ্রিলে ৬৪০, মে মাসে ৭১৪, জুনে ২ হাজার ৯০৭, জুলাইয়ে ৯ হাজার ২০৬ এবং আগস্টে ২০ হাজার ৫৩৬ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন।
সব মিলিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুর সংখ্যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে বর্ষা-পরবর্তী সময়ে রোগীর চাপ ও প্রাণহানির ধারাবাহিকতা পরিস্থিতির ওপর বাড়তি নজরদারির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে।
