ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়েরের নেতৃত্বে একদল শিক্ষার্থীর তোপের মুখে পড়েন ঢাবির শিক্ষক ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দিন। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি দিতে এসে হেনস্তার শিকার হয়েছেন আওয়ামীপন্থি নীল দলের শিক্ষক ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দিন। নিজ বিভাগে ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়েরের নেতৃত্বে একদল শিক্ষার্থীর তোপের মুখে পড়েন তিনি। এক পর্যায়ে অধ্যাপক জামাল দৌড়ে পালাতে গেলে তাঁকে ধাওয়া করেন জুবায়ের। পরে ওই শিক্ষক দৌড়ে গাড়িতে উঠে ক্যাম্পাস ছাড়েন।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ভবনের শিক্ষক লাউঞ্জে এ ঘটনা ঘটে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, জামাল উদ্দিনসহ নীল দলের শিক্ষকরা শিক্ষক লাউঞ্জে গোপনে সভা করছিলেন। সেখানে নীল দলের সাধারণ সম্পাদক ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জিনাত হুদা, অধ্যাপক জামাল উদ্দিন, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ আজমল হোসাইন ভূঁইয়াসহ পাঁচ শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন।
অধ্যাপক জিনাত হুদা গণমাধ্যম কে বলেন, ‘শিক্ষকদের বর্তমান অবস্থা নিয়ে একটি স্মারকলিপি দিতে আমরা উপাচার্যের কার্যালয়ে গিয়েছিলাম। উপাচার্য অনুপস্থিত থাকায় সেটি দিতে পারিনি। পরে চা খেতে সামাজিক বিজ্ঞান ভবনের শিক্ষক লাউঞ্জে এসে বসি। সেখান থেকে বের হওয়ার সময় একদল শিক্ষার্থী আমাদের বাধা দেয়। পরে আমরা দ্রুত স্থান ত্যাগ করি। এ বিষয়ে দ্রুত উপাচার্য বরাবর প্রতিবাদলিপি দেব। আজকে যদি এভাবে শিক্ষকদের রাস্তায় মারার উদ্যোগ নেয়, এটা তো কোনো সভ্য সমাজে হতে পারে না।’
এদিকে, ডাকসু নেতা জুবায়ের নিজেই ফেসবুকে ঘটনার একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন। এতে দেখা যায়, জুবায়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ভবনের সামনের সিঁড়ির মুখে অধ্যাপক জামাল উদ্দিনকে আটকে রাখার চেষ্টা করছেন। তিনি বলতে থাকেন, আপনি যেতে পারবেন না, আপনি (জুলাই অভ্যুত্থানের সময়) শিক্ষার্থীদের ব্রাশফায়ারের কথা বলেছেন। পেছনে শিক্ষার্থীরা শাহবাগ থানায় ফোন দেওয়ার কথা বলছেন। ধস্তাধস্তির ফলে জামাল উদ্দিনের গায়ে থাকা হুডি খুলে যায়। তিনি সিঁড়ি দিয়ে নেমে দৌড়ে কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে যান। তখন জুবায়ের ওই শিক্ষকের পিছু ধাওয়া করেন। এক পর্যায়ে তিনি সাদা রঙের একটি প্রাইভেটকারে উঠে পড়েন। তখনও গাড়ির দরজা ধরে তাঁকে টেনে নামানোর চেষ্টা করছিলেন জুবায়ের। পরে গাড়িটি শাহবাগ দিয়ে বেরিয়ে যায়। অন্য শিক্ষকরাও দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন।
ঘটনার ব্যাপারে জুবায়ের বলেন, গণঅভ্যুত্থানের সময় এই শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের ব্রাশফায়ারের কথা বলেছেন। আমরা চেয়েছিলাম, তাদের ধরে থানায় সোপর্দ করতে। তাছাড়া শিক্ষার্থীরা তাদের বয়কট করেছে।
জানতে চাইলে প্রক্টর সাইফুদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘এর আগে জামাল স্যার ক্যাম্পাসে এলে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করে। পরে আমরা শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করি যে, তিনি আর আসবেন না। আমরা জামাল স্যারকেও বলেছিলাম না আসতে, তারপরও তিনি এসেছেন।’
