শনিবার, ৭ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

তারাবির সময় নিঃশব্দ হত্যাকাণ্ড বিশ্বাসের দরজা খুলতেই ঘরে ঢুকে পড়ে ঘাতক ভাড়াটিয়া, তুরাগে বৃদ্ধা খুনে গ্রেফতার ২

নিজস্ব প্রতিবেদক
মার্চ ৬, ২০২৬ ৫:২৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

রাজধানীর উত্তরার ১৫ নম্বর সেক্টর। পরিপাটি রাস্তা, গেটের সামনে দারোয়ান, ছাদের কোণে সিসিটিভি ক্যামেরা—বাইরে থেকে দেখলে যেন নিখুঁত নিরাপত্তায় ঘেরা এক আধুনিক আবাসিক এলাকা। কিন্তু সেই নিরাপত্তার আবরণের ভেতরেই ঘটল এক মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড। তারাবির নামাজের সময় নিজ বাসাতেই প্রাণ হারালেন ৬৬ বছর বয়সী রেজিনা মমতাজ।

পুলিশ জানিয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী বাড়িরই চারতলার ভাড়াটিয়া নূরে আলম। যাকে প্রতিবেশী হিসেবে বিশ্বাস করেছিলেন বৃদ্ধা ও তার পরিবার। সেই ভাড়াটিয়াই শেষ পর্যন্ত হয়ে ওঠেন ঘাতক। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে নূরে আলম ও তার সহযোগী রাসেল মাতব্বর ওরফে রাসেল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পুরো ঘটনাই ছিল পূর্বপরিকল্পিত। নূরে আলম আগে থেকেই জানতেন, প্রতিদিন রাত ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে বাড়ির কর্তা মাহে আলম তারাবির নামাজ পড়তে মসজিদে যান। সেই সময়টিকেই ‘সুযোগ’ হিসেবে বেছে নেয় তারা।
পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ঘটনার আগে নূরে আলম নিচে নেমে দারোয়ানকে লন্ড্রি থেকে কাপড় আনার কথা বলে বাইরে পাঠিয়ে দেন। এরপর ভবনের সিসিটিভি সংযোগও বিচ্ছিন্ন করা হয়। এ সময় তার সঙ্গে যোগ দেয় আরও দুই সহযোগী।

পুলিশ জানায়, পেশাদার অপরাধীর মতোই তারা জানত কোথায় ক্যামেরার সংযোগ বন্ধ করতে হবে এবং কখন হামলা চালালে ধরা পড়ার ঝুঁকি কম থাকবে।
ঘটনার রাতে তিনতলার দরজায় কলিং বেল চাপলে ভেতর থেকে দরজা খুলে দেন রেজিনা মমতাজ। দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গেই নূরে আলম তার দুই সহযোগীকে নিয়ে ঘরে ঢুকে পড়ে। প্রথমেই বৃদ্ধার হাত-পা বেঁধে ফেলে এবং মুখে স্কচটেপ লাগিয়ে দেয়। এরপর শুরু হয় ঘরের ভেতর তল্লাশি।

নূরে আলম জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে জানিয়েছে, তার ধারণা ছিল সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তার বাসায় সিন্দুকভর্তি টাকা ও গহনা রয়েছে। সেই লোভ থেকেই তারা লুটের পরিকল্পনা করে। তবে ঘরের আলমারি তছনছ করেও বড় অঙ্কের কোনো টাকা বা গহনা পায়নি তারা। শেষ পর্যন্ত বৃদ্ধার গলায়, কানে ও হাতে থাকা প্রায় এক ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুট করে পালিয়ে যায়।

জানা গেছে, নিহত রেজিনা মমতাজের স্বামী মাহে আলম সোনালী ব্যাংকের সাবেক জেনারেল ম্যানেজার। সারাজীবনের সঞ্চয়ে উত্তরার ওই ৮ তলা বাড়িটি নির্মাণ করেছিলেন তিনি। বর্তমানে চার তলা পর্যন্ত নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। বাড়ির তিনতলায় বসবাস করতেন মাহে আলম ও তার স্ত্রী রেজিনা মমতাজ। তাদের দুই সন্তান চাকরির সুবাদে অন্যত্র থাকেন। বাড়ির অন্য ফ্ল্যাটগুলো ভাড়া দেওয়া ছিল, যার একটি ফ্ল্যাটে ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকতেন নূরে আলম।
ভাড়াটিয়ার হাতেই বাড়ির গৃহকর্ত্রী খুন হওয়ার ঘটনায় এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে চরম আতঙ্ক ও অবিশ্বাস। অপরিচিত কাউকে দেখলেই এখন সন্দেহের চোখে তাকাচ্ছেন অনেকে। প্রশ্ন উঠেছে—নগর জীবনে বিশ্বাসের জায়গাটি কতটা নিরাপদ?

তুরাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম জানান, রেজিনা মমতাজ হত্যার ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তদন্তে তিনজনের সম্পৃক্ততার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এর মধ্যে ভাড়াটিয়া নূরে আলম ও তার সহযোগী রাসেল মাতব্বর ওরফে রাসেল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত স্বর্ণালঙ্কারও উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, গ্রেফতার দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে রিমান্ড আবেদন করে পাঠানো হয়েছে। ঘটনায় জড়িত অপর এক আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।